বাংলার ক্রিকেটে নয়া বিপ্লব! ‘ভিশন ২০২৮’-এর নেতৃত্বে অশোক দিন্দা

বাংলার ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ফের একবার কোমর বেঁধে নেমে পড়ল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘ভিশন ২০২৮’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ঘিরে রাজ্য ক্রিকেটে এখন সাজসাজ রব। বাংলার প্রতিটি কোণ থেকে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করে তাদের আন্তর্জাতিক স্তরের প্রশিক্ষণ দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। আর এই উচ্চাভিলাষী মিশনের সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতের প্রাক্তন পেসার এবং বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী অশোক দিন্দাকে।
দীর্ঘদিন বাংলা দলের হয়ে রঞ্জি ট্রফি ও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুবাদে রাজ্যের ক্রিকেটের অলিগলি খুব ভালো করেই চেনেন দিন্দা। অভিজ্ঞ এই পেসার এখন থেকে ‘ভিশন ২০২৮’-এর প্রধান হিসেবে পুরো কর্মসূচির তদারকি করবেন। পাশাপাশি, তিনি সরাসরি ফাস্ট বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন, যা তরুণ পেসারদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
একইসঙ্গে, সিএবি স্পিন বিভাগকে মজবুত করতে বাংলার কিংবদন্তি বাঁহাতি স্পিনার উৎপল চট্টোপাধ্যায়কে স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আগামী প্রজন্মের স্পিনারদের বিশ্বমানের করে তুলতে সাহায্য করবে। সিএবি-র এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, তারা রাজ্যের ক্রিকেটে অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে।
উল্লেখ্য, এটি সিএবি-র প্রথম কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে ‘ভিশন ২০২০’ প্রকল্পের হাত ধরে ভিভিএস লক্ষ্মণ ও মুথাইয়া মুরলীধরনের মতো কিংবদন্তিদের পরামর্শে বাংলা ক্রিকেট নতুন দিশা পেয়েছিল। সেই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় এবার আরও অনেক বেশি বিস্তৃত ও আধুনিক পরিকাঠামো নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘ভিশন ২০২৮’।
আগামী জুলাই মাস থেকেই এই প্রকল্পের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হওয়ার কথা। অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ স্তরের ক্রিকেটারদের ওপরই থাকবে বিশেষ নজর। জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের আধুনিক বৈজ্ঞানিক কোচিং ও উন্নত পরিকাঠামো প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সিএবি-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণে সিনিয়র বাংলা দলের কোচ ও সহকারী কোচদেরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হবে, যাতে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে সিনিয়র দল পর্যন্ত একটি অভিন্ন ও শক্তিশালী ক্রিকেট দর্শন বজায় থাকে। সব মিলিয়ে, বাংলার ক্রিকেট মানচিত্রে নতুন তারার জন্ম দিতে এই প্রকল্প এক অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।