‘পাপের ফল’-এর তোপ মুখ্যমন্ত্রীর! তারাতলা ধসে নিহতের সংখ্যা ১০, দোষীদের ছাড় নয় হুঁশিয়ারি

গত ২৪ জুন কলকাতার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় শোকের পরিবেশ পুরো রাজ্যে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে গণেশ কালিন্দী (৪৫) সহ বেশ কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ‘‘গতকাল দুপুর ১২:০৭ মিনিটে কেএমসির অন্তর্গত তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ ভবন ভেঙে পড়ে। এই বেদনাদায়ক ঘটনায় আমি শোকস্তব্ধ। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’’
বিপর্যয় মোকাবিলায় আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকেও সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় মৃতদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “সব জায়গা থেকে বেআইনি টাকা নিতে নিতে আপনারা এই সিটি অফ জয়কে মৃত্যুকূপে পরিণত করেছেন। এই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের নথিতে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে প্রোমোটার—কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ কাণ্ডের মতোই এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের সন্ধানে জোর তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও নির্মাণ বিধি না মানার অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকাজ এখনো পুরোদমে চলছে, আর ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দলকে। কলকাতা পুরসভার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে কেন এই নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং নিরাপত্তার মান কতটা বজায় ছিল। শহরের প্রতিটি নির্মীয়মাণ কাঠামো এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছে কি না তা নিশ্চিত করা। রাজ্য প্রশাসন সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।