প্রস্রাবে রক্ত বা পিঠে অসহ্য ব্যথা? সাবধান! কিডনি ক্যানসারের এই নীরব লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাবেন না

দিন দিন কিডনি ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আমাদের শরীরে রক্ত ফিল্টার করার প্রধান কাজ করে যে কিডনি, তার কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টিউমার তৈরি করে, তখনই এই মরণব্যাধি বাসা বাঁধে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো ‘রেনাল সেল কার্সিনোমা’ (RCC)। ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকলেও, বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এটি দেখা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে লক্ষণগুলো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা ও রোগমুক্তি সম্ভব।

কিডনি ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ:

প্রস্রাবে রক্ত (হেমাচুরিয়া): কিডনি ক্যানসারের অন্যতম প্রধান সংকেত হলো প্রস্রাবে রক্ত আসা। প্রস্রাবের রঙ গোলাপি, লাল কিংবা কোকাকোলার মতো হতে পারে। অনেক সময় খালি চোখে তা ধরা পড়ে না, ল্যাব টেস্টেই কেবল রক্ত শনাক্ত করা সম্ভব। যদিও পাথর বা সংক্রমণের কারণেও এমন হতে পারে, তবুও প্রস্রাবে এমন পরিবর্তন দেখলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কোমর বা পিঠে একটানা ব্যথা: যদি পিঠের বা কোমরের একপাশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকে যা বিশ্রাম বা ব্যথানাশকে কমছে না, তবে তা অবহেলা করবেন না। টিউমার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আশেপাশের টিস্যুতে চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে শরীরের এক দিকে অস্বস্তি অনুভূত হয়।

অকারণে ওজন হ্রাস: নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম করা সত্ত্বেও হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া কিডনি ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ক্যানসার শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ওজন দ্রুত কমতে থাকে। এর সঙ্গে প্রায়ই তীব্র ক্লান্তি এবং ক্ষুধামন্দা দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিঠব্যথা বা প্রস্রাবের সমস্যা মানেই যে ক্যানসার, তা নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদী যেকোনো অস্বস্তি শরীরকে ভেতরে ভেতরে দুর্বল করে দিতে পারে। এই রোগ শনাক্ত করার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান অত্যন্ত কার্যকরী। সঠিক সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতনতাই হোক আপনার সুস্থতার প্রধান অস্ত্র।