অনুদানের টাকায় কার কার হাত? রাম মন্দির চুরির তদন্তে নামল এসআইটি, বড় দাবি পরিবারের

রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদানের টাকা চুরি ও নয়-ছয় নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এই ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ বছর বয়সী অনুকল্প মিশ্র এবং লব কুশ মিশ্রের নাম উঠে আসার পর থেকে বিতর্ক ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও রাম মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শুরুতে বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করা হলেও, বর্তমানে এসআইটি-র তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
সম্প্রতি টিভি৯ ভারতবর্ষের বিশেষ সাক্ষাৎকারে অনুকল্প মিশ্রের বাবা রবি মিশ্র জানিয়েছেন যে, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ২০ বছর বয়সী বিএ পড়ুয়া অনুকল্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অনুদানের বাক্স থেকে টাকা গণনার ঘরে নিয়ে যাওয়ার সময় সে জালিয়াতি করেছে। কিন্তু রবি মিশ্রের দাবি, অনুকূল প্রতিদিন নিয়ম মেনে মন্দিরে কাজ করতে যায় এবং এসআইটি-র সমস্ত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, তার ছেলেকে আটক করা হয়নি, সে নিয়মিত বাড়ি ফিরছে। এসআইটি তাকে যখনই ডেকেছে, সে সহযোগিতা করেছে।
অন্যদিকে, এই মামলার দ্বিতীয় সন্দেহভাজন লব কুশ মিশ্রকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হয়েছে। তার গ্রাম রুডৌলিতে তদন্তের প্রয়োজনে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা পৌঁছালে লব কুশের দাদু জগদম্বা প্রসাদ মিশ্র দাবি করেন যে, তাঁর নাতি গত এক মাস ধরে বাড়ি ফেরেনি। পরিবার এবং লব কুশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবারের দাবি, বাড়িতে ১০ হাজার টাকাও ছিল না, অথচ বাইরে ১০ লক্ষ টাকা চুরির গুজব রটানো হচ্ছে। লব কুশ যে স্থানগুলোতে কর্মরত ছিল, সেখান থেকেও পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা উদ্ধারের খবর মিলছে।
এই মামলাটি এখন কেবল চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সঙ্গে ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেছে। রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে আঙুল তুলছেন অনেকে। ট্রাস্টের আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে আনার দাবি উঠলেও, চম্পত রায় তদন্তের দোহাই দিয়ে তা এড়িয়ে গেছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) কড়া অবস্থান নিয়েছে। তারা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দ্রুত এফআইআর দায়ের এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে। ভিএইচপি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে পাঠানো হোক এবং দৈনিক শুনানি সম্পন্ন করে সত্য উদঘাটন করা হোক। রাম মন্দিরের মতো একটি পবিত্র স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় এবং কোটি কোটি ভক্তের অনুদানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে। এখন দেখার, এসআইটি-র রিপোর্ট এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে কারা আসল দোষী হিসেবে চিহ্নিত হয়।