রেলের নতুন সিদ্ধান্ত! শিয়ালদহের কোন কোন স্টেশনে আর মিলবে না রিজার্ভেশন টিকিট? লিস্ট দেখুন

রেলযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা সামনে এনেছে পূর্ব রেল। শিয়ালদহ বিভাগের অন্তর্গত ৮টি স্টেশনে প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম (PRS) বা টিকিট কাউন্টার চিরতরে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে যারা সংরক্ষিত ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য কাউন্টারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাদের জন্য এই খবরটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ওই ৮টি স্টেশনের পিআরএস কাউন্টার খোলা থাকবে। এরপর ১ জুলাই থেকে সেখানে আর কোনোভাবেই টিকিট বুক করা যাবে না। যে স্টেশনগুলিতে এই পরিষেবা বন্ধ হতে চলেছে সেগুলি হলো—আগরপাড়া, টিটাগড়, জগদ্দল, বিরাটি, অশোকনগর রোড, মছলন্দপুর, ঢাকুরিয়া এবং নিউ আলিপুর।
হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? যদিও রেল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি, তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে যাত্রী পরিষেবার ধরন বদলানোর কারণেই এই পদক্ষেপ। বর্তমানে স্মার্টফোন এবং অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই খুব সহজে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে টিকিট কাটা যাচ্ছে। স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি এড়াতে অধিকাংশ যাত্রীই এখন ‘আইআরসিটিসি’ (IRCTC)-র অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ ব্যবহার করছেন। ফলস্বরূপ, সংশ্লিষ্ট ছোট স্টেশনগুলির কাউন্টারে টিকিট বিক্রির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যাত্রী সংখ্যা কম থাকার কারণে এই কাউন্টারগুলি চালানো রেলের কাছে আর লাভজনক নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
পিআরএস বা প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম হলো ভারতীয় রেলের একটি দেশব্যাপী কম্পিউটারাইজড নেটওয়ার্ক, যা সংরক্ষিত টিকিটের বুকিং ও ব্যবস্থাপনার কাজ সামলায়। দীর্ঘকাল ধরে এই কাউন্টারগুলি সাধারণ মানুষের কাছে রিজার্ভেশন টিকিট কাটার প্রধান মাধ্যম ছিল। রেলের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রবীণ যাত্রী বা যারা ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট বুকিংয়ে অভ্যস্ত নন, তারা কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক যাত্রীই স্টেশন কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটাকে বেশি নিরাপদ ও ভরসাযোগ্য মনে করেন। ফলে হঠাৎ করে এই পরিষেবা বন্ধ হওয়ার খবরে সাধারণ যাত্রীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে রেলের এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের আতঙ্কিত হওয়ার খুব একটা কারণ নেই। যারা এই ৮টি স্টেশনের কাউন্টারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তারা নিকটবর্তী অন্য কোনো বড় স্টেশনের কাউন্টার ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি, অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা তো থাকছেই। স্মার্টফোনের একটি ক্লিকের মাধ্যমেই এখন টিকিট বুকিং করা সম্ভব, যা সময়ের সাশ্রয়ও করে। তবুও, প্রান্তিক স্টেশনগুলিতে কাউন্টার বন্ধের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে যে এক বিশেষ পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে ডিজিটাল টিকিটিংয়ের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বাড়ায় কি না।