‘কালীকে ধরলেই সব ফাঁস!’ তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী

তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে মৃত্যুমিছিলের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি তৎকালীন তৃণমূল সরকার এবং কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকে দুর্নীতির অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কাঠামোগত গাফিলতি ও নকশায় গলদ থাকা সত্ত্বেও নথিতে ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। এই দাবি ঘিরে বিধানসভার অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গোডাউন ধসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি থেকে শুরু করে পুরসভার অনুমোদনের মধ্যস্থতাকারী দালাল আব্দুল হামিদ। তবে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় উচ্চারিত একটি নাম—‘কালী’। মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘‘আপনার কলকাতা পুরনিগমে কী হয়েছে জানি না, তবে কালীকে খুঁজলে সব বেরিয়ে যাবে। আর এই কালীকে নিয়োগ করেছে ক্যামাক স্ট্রিট।’’
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন যে, কলকাতা পুরসভায় কোনো নির্মাণ পরিকল্পনা বা প্ল্যান পাস করাতে হলে ‘কালী’র সবুজ সংকেত বাধ্যতামূলক। তাঁর দাবি, এই কালী বাইপাসের পাশে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃণমূল ভবন তৈরির অর্থ জোগান দিচ্ছে। এই পুরো দুর্নীতির নেটওয়ার্ক তিনি চিহ্নিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই রহস্যময় ‘কালী’ বা কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত কে? জানা গেছে, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ওএসডি (OSD) ছিলেন। ২০১০ সালে সোশ্যাল সেক্টরে চিফ ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেও, ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়ার পর তিনি মেয়র দপ্তরের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন। অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এই কালীচরণের নাম জড়িয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যামাক স্ট্রিটের তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সেসময় নিজেকে এই বিষয়ে অজ্ঞাত বলে দাবি করলেও, মুখ্যমন্ত্রীর নতুন এই বিস্ফোরক বয়ান বিষয়টি আবারও নতুন করে প্রকাশ্যে আনল। তারাতলা দুর্ঘটনার আড়ালে থাকা এই প্রশাসনিক ও আর্থিক দুর্নীতির পর্দাফাঁস এখন রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।