উপবাসের পূর্ণ ফল পেতে কী করবেন? ২৬শে জুন নির্জলা একাদশীর পারণের শুভ মুহূর্ত ও নিয়মাবলী

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি, যা ‘নির্জলা একাদশী’ নামে পরিচিত, হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সারা বছরের ২৪টি একাদশীর মধ্যে এটিই শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে কঠিন। এই ব্রতে ভক্তরা জল ও অন্ন—উভয়ই বর্জন করেন। পুরাণ মতে, পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম ভীমসেন এই কঠোর ব্রত পালন করেছিলেন বলেই একে ‘ভীম একাদশী’ও বলা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, নির্জলা একাদশীর কঠোর নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে বছরজুড়ে সমস্ত একাদশী ব্রত পালনের সমতুল্য পুণ্য লাভ হয়।

তবে কেবল উপবাস করলেই ব্রত সম্পূর্ণ হয় না; বরং উপবাস ভঙ্গের (পারণ) প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপবাস ভঙ্গের সময় এবং পদ্ধতি সঠিক না হলে ব্রতের পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের নির্জলা একাদশী ব্রত পালনের পর ২৬শে জুন, ২০২৬ তারিখে উপবাস ভঙ্গ (পারণ) করা হবে।

পারণের শুভ সময় ও দ্বাদশী তিথি:
শাস্ত্র মতে, দ্বাদশী তিথিতে একাদশীর উপবাস ভঙ্গ করা বাঞ্ছনীয়। দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২৬শে জুন, শুক্রবার ভোর ৫:২৫ মিনিট থেকে সকাল ৮:১৩ মিনিটের মধ্যে নির্জলা একাদশীর উপবাস ভঙ্গ করা শুভ। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই ভক্তদের পারণ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২৬শে জুন দ্বাদশী তিথি রাত ১০:২২ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।

হরি বাসর ও সতর্কবার্তা:
নির্জলা একাদশী ব্রতের ক্ষেত্রে ‘হরি বাসর’ সময়কাল সম্পর্কে সচেতন থাকা অপরিহার্য। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাদশী তিথির প্রথম এক-চতুর্থাংশ বা মোট দ্বাদশী সময়ের প্রথম ছয় ঘণ্টা সময়কালকে ‘হরি বাসর’ বলা হয়। এই সময়কাল অত্যন্ত পবিত্র ও উপবাস ভঙ্গের জন্য নিষিদ্ধ। শাস্ত্রীয় নির্দেশিকা অনুসারে, হরি বাসরের চলাকালীন উপবাস ভঙ্গ করলে ব্রতের ফল নিষ্ফল হয়। তাই পারণ করার আগে ভক্তদের হরি বাসর শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে নেওয়া আবশ্যক।

নির্জলা একাদশীর এই বিশেষ উপবাস ভঙ্গের সময় শুদ্ধাচারে ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ আরাধনা ও দান-ধ্যান করা অত্যন্ত কল্যাণকর। উপবাস শেষে ভক্তরা সাধ্যমতো অন্ন ও জল গ্রহণ করে নিজের ব্রত পূর্ণ করেন। এই ব্রত কেবল আত্মিক শুদ্ধিই নয়, বরং জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি ও মোক্ষ লাভের পথ প্রশস্ত করে বলে ভক্তদের অটুট বিশ্বাস।