‘কাউকেই ছাড়া হবে না’-তারাতলায় মৃত্যুমিছিল, বিধানসভায় হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি এখন তদন্তের মোড় ঘুরছে আইনি এবং রাজনৈতিক জটিলতার দিকে। বৃহস্পতিবার সকালে বিধানসভায় এই বিপর্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আইনি পদক্ষেপ ও SIT গঠন ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে BNS ১০ (অনিচ্ছাকৃত খুন), BNS ১১ (অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা) এবং BNS ৩(৫) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)—এই কঠোর ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে তারাতলা থানা।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গুদামটির প্ল্যান ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিযুক্ত। তিনি বলেন, “২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত। এখনও ১০-১২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।” নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক তরজা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। সরাসরি প্রাক্তন মেয়রের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “সব জায়গায় টাকা নিয়ে কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ফেলেছেন। আপনাদের প্রাক্তন মেয়র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কাউকে ছাড়া হবে না।” নির্মাণে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এবং ভারী বিম কাটার মেশিনের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
উদ্ধারকার্যের বর্তমান অবস্থা বৃহস্পতিবার সকালেও তারাতলার ব্রেস ব্রিজের কাছে উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করে আনতে এনডিআরএফ ও সেনার দল নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তদন্তকারী দলের নজর এখন প্ল্যান অনুমোদনের নথিপত্র এবং নির্মাণকালীন গাফিলতির প্রতিটি খুঁটিনাটির দিকে। প্রশাসনের দাবি, এই বিপর্যয়ের পেছনে যারাই যুক্ত থাকুক, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।