‘ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন খাব কী?’ তারাতলায় ছাদ ভেঙে মৃত্যুতে ভাটপাড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

কলকাতা শহরের তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর বা কারখানার ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে দুই জেলায়। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে আহত বহু শ্রমিককে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার খবর ভাটপাড়ায় পৌঁছাতেই মুহূর্তের মধ্যে শোকের অন্ধকারে তলিয়ে যায় পূর্বাশা এলাকা। পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে এখন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
মৃত কৃষ্ণা চৌধুরী ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অকাল প্রয়াণ স্থানীয় বাসিন্দাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে এলাকার মানুষজন এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। কৃষ্ণা চৌধুরী ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র ভরসা। তাঁর আয় দিয়েই চলত সংসারের ঘানি। আচমকা এই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।
মৃতের ভাইবৌ রেখা চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা তো জানতামই না ওই কারখানায় কী ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হঠাৎ ফোনে মৃত্যুর খবর আসতেই সব অন্ধকার হয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রীকে শুধু অনুরোধ করব, আমাদের পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর দিকে তাকান। আমাদের চরম সহায়তার প্রয়োজন। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে মানুষটি এভাবে চলে যাওয়ায় পরিবারটি এখন পুরোপুরি দিশেহারা।”
অন্যদিকে, নিহত কৃষ্ণা চৌধুরীর মা যশোদা দেবী চৌধুরী শোকে পাথর হয়ে গেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলতে থাকেন, “পরশু দিন কাজে যাওয়ার সময়ও ঠিকঠাক ছিল সব…।” তারপর আর কথা বলতে পারেননি তিনি। শোকের আবহে এলাকায় এখন শুধুই আহাজারি।
এলাকাবাসী অমিত শাহ জানান, “কৃষ্ণা চৌধুরীর পরিবারে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। তিনি আগে জুটমিলে কাজ করতেন, যেখানে কাজ পেতেন সেখানেই পরিশ্রম করতেন। তাঁর সংসার চালানোর মতো আর কেউ নেই। এই বিপর্যয়ে আস্ত একটি পরিবারের সর্বনাশ হয়ে গেল।” এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, প্রশাসনের তরফ থেকে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই সংকটের মুহূর্তে দ্রুত ও সক্রিয়ভাবে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে হবে।
তারাতলার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে নির্মাণকালীন নিরাপত্তা বিধির কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে আপাতত ভাটপাড়ার এই পরিবারটির চোখে শুধুই অন্ধকার। শোকের মাঝে এখন একটাই আর্তি—ভবিষ্যৎ বাঁচার রসদ।