মেসির ইভেন্টে অনুমতিহীন প্রবেশ! অরূপ বিশ্বাসের পর এবার আইনি জালে ভাতৃবধূ জুঁই, দাবি ১০ কোটির ক্ষতিপূরণ

রাজ্যের রাজনীতির উত্তাল আবহের মধ্যে ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের এক বিতর্কিত ঘটনা নতুন মোড় নিল। কলকাতার লিওনেল মেসি ‘গোট ট্যুর’ (GOAT Tour) সংক্রান্ত জটিলতায় এবার আইনি গেরোয় পড়লেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের ভাতৃবধূ জুঁই বিশ্বাস। এর আগে স্বয়ং অরূপ বিশ্বাসকেও এই একই মামলায় আদালতের সমনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এবার ইভেন্ট আয়োজক শতদ্রু দত্ত সরাসরি জুঁই বিশ্বাসের নামে আইনি নোটিস পাঠিয়ে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন।

কেন এই আইনি নোটিস?
ঘটনার সূত্রপাত মেসির সেই আলোচিত কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে। আয়োজক শতদ্রু দত্তর দাবি, মেসি ইভেন্টে জুঁই বিশ্বাসকে কোনোভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি তাঁর নামে কোনো ‘অ্যাক্রিডেশন কার্ড’ও ইস্যু করা হয়নি। নোটিসে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও জুঁই বিশ্বাস নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেন এবং মেসির সঙ্গে ছবি ও সেলফি তোলেন।

মিথ্যে পরিচয়ের অভিযোগ:
শুধু অনধিকার প্রবেশই নয়, নোটিসে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আয়োজক সংস্থার দাবি, অনুষ্ঠানের পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে জুঁই বিশ্বাস দাবি করেছিলেন যে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর অনুমতিতেই তিনি মাঠে প্রবেশ করেছেন এবং মন্ত্রীকে নিজের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। শতদ্রু দত্তর অভিযোগ, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আয়োজক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনি এই কাজ করেছেন। এই মন্তব্যের ফলে আয়োজক সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং তাঁকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

১৫ দিনের আল্টিমেটাম:
শতদ্রু দত্ত আইনি নোটিসে জুঁই বিশ্বাসকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। ব্যর্থ হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, অরূপ বিশ্বাসের পর এবার তাঁর পরিবারের সদস্যের নামে এই নোটিস তৃণমূলের অন্দরে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করল।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা লিওনেল মেসি এখন বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত। সেখানেও তাঁর বিধ্বংসী ফর্ম অব্যাহত। একদিকে যখন মাঠে মেসির গোল উৎসব চলছে, অন্যদিকে কলকাতায় শতদ্রু দত্ত তাঁর হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ। এখন দেখার বিষয়, জুঁই বিশ্বাস এই আইনি নোটিসের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।