৬ কেজি সোনা ও রুপোর পাহাড়! সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ নেত্রীর বাড়িতে ইডি-র অভিযান, খুলল দুর্নীতির পর্দা

বিধাননগরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী টিনা সাহা ভৌমিকের বাড়ি ও ব্যাঙ্ক লকার থেকে প্রায় ৬ কেজি সোনা এবং প্রায় দেড় কেজি রুপো উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, বারাসাত আদালতে খারিজ হয়ে গেল সব্যসাচী দত্তর জামিনের আবেদন। তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার বিধাননগর নর্থ থানায় দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয় টিনা সাহা ভৌমিককে।

ঘটনার সূত্রপাত সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে ওঠা একটি তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের ওপর নজরদারি চালাতে গিয়েই পুলিশ ও তদন্তকারী অফিসারদের হাতে আসে টিনা সাহা ভৌমিকের এই বিশাল সম্পত্তির খবর। সব্যসাচী দত্তর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত এবং ঘনিষ্ঠ নেত্রী টিনাকে তলব করেছিল পুলিশ। এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে টিনা হাজিরা দেন বিধাননগর উত্তর থানায়। টানা পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, “আইনের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে, তদন্ত চলছে, আপনারা সব দেখতে পাবেন।”

এদিকে, টিনা সাহা ভৌমিকের এই বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে পালটা যুক্তি দিয়েছেন তাঁর শ্বশুর নবকুমার সাহা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “পুলিশ এসেছিল, সব সার্চ করে নিয়ে গিয়েছে। সব্যসাচীর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। উদ্ধার হওয়া সোনা আমাদেরই। ১৩-১৪ বছর ধরে চাকরি করে তিল তিল করে এই সম্পত্তি তৈরি করেছেন টিনা।” তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই বিপুল সোনা ও রুপোর গয়নার সঙ্গে দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে। সব্যসাচী দত্তর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, তবে এখনও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

বুধবার সব্যসাচী দত্তকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হয়। সব্যসাচীর আইনজীবীর সওয়ালে দাবি করা হয়, “তিনি কোনও সরকারি টাকা নয়ছয় করেননি, আর্থিক তছরুপের সঙ্গেও জড়িত নন। তাই প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট এখানে খাটে না।” তবে সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, সব্যসাচীকে জামিন দিলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হতে পারে। সব পক্ষের সওয়াল শুনে আদালত সব্যসাচী দত্তর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আগামী ৮ই জুলাই পর্যন্ত তাঁকে ফের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার মোড় ঘোরানোর জন্য বৃহস্পতিবার বারাসাত সিজেএম আদালতে সব্যসাচী দত্তর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। সব মিলিয়ে, এই সোনা উদ্ধারের ঘটনা ও সব্যসাচী দত্তর আইনি লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।