পুরানো গাড়ি কেনার পরিকল্পনা? হাতছাড়া হওয়ার আগেই চেক করুন এই জরুরি নথি!

বাজেটের মধ্যে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনা এখন অনেকেরই পছন্দ। তবে সাশ্রয়ী এই সিদ্ধান্তে ছোট্ট একটি ভুল ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গাড়ি কেনার আগে কাগজের নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখাটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নাহলে টাকা দিয়ে কেনা গাড়িও হাতছাড়া হতে পারে।
কেন নথিপত্র যাচাই করা জরুরি? অনেকেই বিক্রেতার মুখে কথা শুনে গাড়ি কিনে ফেলেন, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি করে। গাড়িটি যদি কোনো চুরি, দুর্ঘটনা বা আইনি মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে আইনি সংস্থা বা ব্যাঙ্ক সেই গাড়ির দাবি করতে পারে। ফলে আপনার জমানো টাকা জলে যেতে পারে।
গাড়ি কেনার আগে যা অবশ্যই যাচাই করবেন:
ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর: রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের (RC) সঙ্গে গাড়ির আসল ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর মিলিয়ে নিন।
ব্যাঙ্ক লোনের তথ্য (Hypothecation): বিক্রেতা লোন শোধের দাবি করলেও মুখের কথায় বিশ্বাস করবেন না। ব্যাঙ্কের আসল NOC (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) এবং ফর্ম ৩৫-এর কপি অবশ্যই চেয়ে নিন। এই নথিগুলো ছাড়া RC থেকে ব্যাঙ্কের নাম সরানো অসম্ভব।
আইনি ঝামেলা: গাড়িটি কোনো দুর্ঘটনা বা মামলার সঙ্গে জড়িত কি না, তা স্থানীয় আরটিও (RTO) অফিস থেকে যাচাই করে নিন।
সার্ভিস হিস্ট্রি ও ওডোমিটার: গাড়ির সার্ভিস হিস্ট্রি এবং ইন্স্যুরেন্স ক্লেমের রেকর্ড পরীক্ষা করুন। ওডোমিটারের রিডিং ম্যানিপুলেট করা হয়েছে কি না, সেদিকে নজর রাখুন।
টেস্ট ড্রাইভ ও মেকানিক চেক: গাড়ি কেনার আগে অন্তত ৫-১০ কিলোমিটার চালিয়ে দেখুন। সবশেষে একজন অভিজ্ঞ নিরপেক্ষ মেকানিককে দিয়ে গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
নিশ্চিত করুন মালিকানা বদল: গাড়ি নিজের নামে ট্রান্সফার করার সময় ব্যাঙ্কের NOC সহ সমস্ত জরুরি নথিপত্র RTO-তে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। এর ফলে গাড়ির ডকুমেন্ট থেকে হাইপোথিকেশন পুরোপুরি মুছে যাবে এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি ঝামেলার ভয় থাকবে না।
মনে রাখবেন, সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়িতে সস্তাই সব নয়, বরং নথিপত্রের স্বচ্ছতাই আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখবে।