বিধানসভায় কুণাল ঘোষের ‘অগ্নিপরীক্ষা’! বাজেটের অস্পষ্টতা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ বেলেঘাটার বিধায়কের

রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে আলোচনার সুযোগ পেয়েই বর্তমান বাজেটের অস্পষ্টতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে সরব হলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিজের কুড়ি মিনিটের বক্তব্যে তিনি কেবল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাই করেননি, বরং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবও পেশ করেছেন।

শ্বেতপত্রের দাবিতে কুণাল: বাজেট বিতর্কের অন্যতম হাইলাইট ছিল রাজ্যের ঋণ ও বকেয়া সংক্রান্ত কুণাল ঘোষের দাবি। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় সরকার ঋণ পরিশোধে সফল হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন— ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের ঠিক কত টাকা প্রাপ্য ছিল এবং কত টাকা পাওয়া গিয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র (White Paper) অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।

বাজেটের ‘ফাঁকফোকর’ নিয়ে প্রশ্ন:

  • সামাজিক প্রকল্প: অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান প্রকল্পের ‘উপযুক্ত’ শর্তাবলি নিয়ে ধোঁয়াশা দূর করার দাবি তুলেছেন তিনি। উপভোক্তা নির্বাচনে স্বচ্ছতার পক্ষে সওয়াল করে মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনেছেন কুণাল।

  • সিভিক ভলান্টিয়ার: সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন বৃদ্ধিকে স্বাগত জানালেও, এই নিয়োগের ঐতিহাসিক ভিত্তি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

  • স্কুলে পুষ্টি: কলকাতা পুরসভার স্কুলে ইসকনের নিরামিষ খাবারের বদলে শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ডিমের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম ও পরিকাঠামো নিয়ে প্রস্তাব:

  • সাংবাদিক পেনশন: শুধু অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী নয়, নেপথ্যে কাজ করা ডেস্ক কর্মীদেরও পেনশনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • শহরের ঐতিহ্য: সুভাষ সরোবরের সৌন্দর্যায়ন, টাকি বয়েজ স্কুল এবং রামমোহন লাইব্রেরির উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

  • চিকিৎসা পরিকাঠামো: ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজকে বিশ্বের বৃহত্তম হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

তদন্তের দাবি: সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বাইপাস সংলগ্ন এলাকার কৃষি জমি ও জলাজমি ভরাট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। বিধানসভার অন্দরে বিরোধী শিবিরের ‘চোর’ স্লোগানকে উপেক্ষা করে তাঁর এই আক্রমণাত্মক ও গঠনমূলক ভঙ্গি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।