সব বাতিল করে দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! তারাতলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ

বুধবার দুপুরে তারাতলায় ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এক নির্মীয়মাণ কারখানার শেড ভেঙে পড়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন অন্তত ১৮ জন শ্রমিক, যাদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ (NDRF), সেনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী: বিপর্যয়ের খবর পৌঁছানো মাত্রই নবান্নে তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করে তড়িঘড়ি ছুটে যান দুর্ঘটনাস্থলে। উদ্ধারকার্য নিজে মনিটরিং করার পাশাপাশি আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ যখন শ্রমিকরা পুরোদমে কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই আচমকা বিকট শব্দে কারখানার সুবিশাল শেডটি ভেঙে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোহার ভারী বিম ও কাঠামোর নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। চারপাশ ঢেকে যায় ধুলোর ঘন আস্তরণে।

উদ্ধারকার্যে সেনার সাহায্য: দুর্ঘটনার তীব্রতা বুঝে রাজ্য সরকার দ্রুত সেনাবাহিনীকে তলব করে। দুপুর ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ উদ্ধারকাজে যোগ দেয় সেনা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ২০টি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে গ্রিন করিডোর করে তাদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” বর্তমানে হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং স্বাস্থ্য সচিব তদারকি করছেন।

প্রশাসনের কড়া বার্তা: ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ধরনের নির্মাণকাজে কোনো রকম গাফিলতি বা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সরকার বরদাস্ত করবে না। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আগামীকাল সকাল ১১টায় বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থলে পরিস্থিতির তদারকি করছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং কলকাতা পুরসভার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্মিতা পান্ডে। উদ্ধারকার্য চলাকালীন যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।