বিচ্ছেদের পরই কি বদলে গেলেন মৌনী? ক্ষমা ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী!

স্বামী সুরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা করার কয়েক দিনের মধ্যেই নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় এবং মানসিক লড়াই নিয়ে অকপটে মুখ খুললেন অভিনেত্রী মৌনী রায়। বিচ্ছেদের মতো কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি এখন যেভাবে আধ্যাত্মিকতার হাত ধরে এগিয়ে চলেছেন, তা রীতিমতো প্রশংসনীয়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মৌনী ক্ষমা, মানসিক ক্ষত এবং অতীতকে আঁকড়ে না রাখার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

মৌনী জানান, জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা করার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই পরিপক্ক হয়েছে। ছোটবেলায় কাউকে ক্ষমা করা সহজ থাকলেও সেই ক্ষতের দাগ ভুলে যাওয়া ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। অভিনেত্রী বলেন, “আমি সবসময়ই মানুষকে দ্রুত ক্ষমা করে দিতাম, কিন্তু কষ্টের রেশ থেকে যেত। এখন আধ্যাত্মিক যাত্রাপথে বুঝতে পেরেছি যে, আপনি শুধু ক্ষমাই করবেন না, বরং সেই পরিস্থিতিকে ছেড়ে দেবেন। বাকিটা ঈশ্বর আপনাকে ভুলিয়ে দেবেন।”

নিজের মনের শান্তি বজায় রাখার জন্য তিনি বর্তমানে ধ্যান (Meditation) এবং জপের ওপর জোর দিয়েছেন। মৌনীর মতে, মনে ক্ষোভ বা তিক্ততা পুষে রাখা মানে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা। তিনি বলেন, “যদি আপনি পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে ছেড়ে দিতে না পারেন, তবে সেই যন্ত্রণা আপনাকে ভেতর থেকে শেষ করে দেবে।” অনেক সময় যারা আঘাত দেয়, তারা হয়তো নিজেদের ভুল ভুলে এগিয়ে যায়, কিন্তু ভুক্তভোগী ব্যক্তি সারাজীবন সেই যন্ত্রণা বয়ে বেড়ান—এই কঠিন সত্যটিও মৌনীকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।

তবে ক্ষমা করা মানেই যে সব মেনে নেওয়া—তা তিনি মানতে নারাজ। মৌনী খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ক্ষমা করার অর্থ অপর পক্ষের ভুল আচরণকে সমর্থন করা নয়। তিনি মানুষকে বিচার না করে, তাদের নেতিবাচক গুণগুলোকে চিহ্নিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। মৌনী বলেন, “কিছু মানুষ আছে যারা আঘাত দেওয়ার জন্য সব সীমা অতিক্রম করতে পারে। আমি তাদের মানুষ হিসেবে খারাপ বলছি না, তবে তাদের সেই ধ্বংসাত্মক আচরণগুলোকে আমি অবশ্যই চিহ্নিত করব।”

ব্যক্তিগত জীবনের বিচ্ছেদ নিয়ে মৌনী এর আগে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বর্তমান সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের সরাসরি উল্লেখ না করলেও, তাঁর এই দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি তিক্ততার পথে না হেঁটে মানসিক নিরাময় বা ‘হিলিং’-এর পথ বেছে নিয়েছেন। নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে এক নতুন ও ইতিবাচক ভবিষ্যতের দিকেই তাঁর যাত্রা।