আর্থিক লেনদেন থেকে অস্ত্র রহস্য! সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তদন্তের জাল গুটিয়ে আনছে ইডি, এবার কে?

সোনা পাপ্পু এবং প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস কাণ্ডে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ঘুম ছুটেছে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ মহলের। সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে এবার শান্তনু-ঘনিষ্ঠ তিন পুলিশ আধিকারিককে তলব করেছেন ইডির আধিকারিকরা। এঁদের মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় কর্মরত এক সাব-ইনস্পেক্টরও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই তলবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, কসবার বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমা-সহ তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজনকে এই সপ্তাহেই ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের বাসিন্দা সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখল, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের একাধিক গুরুতর অভিযোগের মাধ্যমে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ইডি প্রথমে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করে। জয়ের সূত্র ধরেই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। বালি পাচার মামলাতেও শান্তনুর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি হয়েছিল। বারবার হাজিরা এড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত সিজিও কমপ্লেক্সে গেলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত মাসে সস্ত্রীক ইডি দফতরে হাজির দিলে তদন্তকারী সংস্থা সোনা পাপ্পুকেও গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাঁরা সকলেই জেল হেফাজতে রয়েছেন।

তদন্তে ইডি এক নতুন মোড় পেয়েছে। তল্লাশি অভিযানে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি ৭ এমএম পিস্তল উদ্ধার হয়েছিল, যা তাঁর স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই আগ্নেয়াস্ত্রটি ধৃত ব্যবসায়ী জয়ের সংস্থা বিক্রি করেছিল। এছাড়া পাপ্পুর স্ত্রীর সংস্থার সঙ্গে জয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের হদিস মেলায় তদন্তকারীরা অবাক। যদিও জয় কামদারের দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ঋণ। অন্যদিকে, আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেছেন পাপ্পুর স্ত্রী।

এবার এই বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেন এবং অস্ত্র রহস্যের জট খুলতে চাইছে ইডি। এজন্য সোনা পাপ্পুর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, শান্তনু-ঘনিষ্ঠ তিন পুলিশ অফিসারের বয়ান এই তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইডির এই নতুন পদক্ষেপে এখন ধৃতদের পাশাপাশি তাদের সহযোগীরাও প্রবল চাপে পড়েছে। তদন্তের জাল কতটা গভীর পর্যন্ত পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।