“৮ থেকে ১০ হাজার টাকা!”-দলের নির্দেশেই কাটমানি নেয়া হয়েছিল, স্বীকারোক্তি TMC নেতাদের!

রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে থাকার পর থেকেই শাসকদলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে ‘কাটমানি’ বা দুর্নীতির অভিযোগ। তবে এবার শুধু অভিযোগেই আটকে রইল না বিষয়ী, রীতিমতো গণরোষের মুখে পড়ে কাটমানির টাকা পকেট থেকে বের করে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূলের তিন প্রভাবশালী নেতা! উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
শীতলকুচি ব্লকের ভাঐয়ের গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৪ নম্বর বুথ এলাকার ছোট বাংডাকি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, ‘আবাস যোজনা’ বা সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গরিব গ্রামবাসীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকা তুলছিলেন স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভ ও জনচাপের মুখে পড়ে শেষমেশ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন অভিযুক্তরা।
জনতার চাপে ‘উধাও’ দাদাগিরি, ফেরত গেল ৯০,০০০ টাকা!
স্থানীয় সূত্রের খবর, গ্রামের সাধারণ মানুষের একজোট হওয়া রেজিস্ট্যান্সের মুখে পড়ে এলাকার তিন দাপুটে তৃণমূল নেতা— মনোজ অধিকারী, উত্তম বর্মন এবং ক্ষিতীশ দেব শর্মা পিছু হটতে বাধ্য হন। জানা গিয়েছে, বেগতিক বুঝে সম্প্রতি তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মোট প্রায় ৯০,০০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
টাকা ফেরতের এই খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা জেলায়। গ্রামবাসীদের দাবি, আবাসের তালিকায় নাম তোলার টোপ দিয়ে ওই তিন নেতা প্রতিটি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ বা ‘কিকব্যাক’ আদায় করেছিলেন।
“দলের নির্দেশেই টাকা নেওয়া হয়েছিল…”— বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি নেতাদের!
টাকা ফেরতের খবর প্রকাশ্যে আসতেই যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই এক অদ্ভুত সাফাই শোনা গেল অভিযুক্ত নেতাদের গলায়। যা নিয়ে বিতর্ক আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
নেতা মনোজ অধিকারীর দাবি: “দলের নির্দেশ মেনেই কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে বাসিন্দারা এখন সেই টাকা ফেরত চাইছেন বলে আমরা তা ফিরিয়ে দিচ্ছি।”
নেতা উত্তম বর্মন: তিনিও প্রায় একই সুরে দাবি করেন, এই টাকা দলের কাজেই নেওয়া হয়েছিল।
ক্ষিতীশ দেব শর্মার পরিবার: ওই তৃণমূল নেতার ছেলে অক্ষয় দেব শর্মা জানান, নির্দিষ্ট একটি দিনেই বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীকে মোট ১৩,০০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকাও হিসাব মতো মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল: টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে “দলের নির্দেশ”-এর তত্ত্ব খাড়া করতেই বিরোধীরা সুর চড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, এর থেকেই প্রমাণিত যে নিচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত কাটমানির চেইন সিস্টেম চলছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর ওই এলাকায় তৃণমূলের ভাবমূর্তি যে বড়সড় ধাক্কা খেল, তা মানছেন খোদ দলেরই একাংশ।