অবসরকালীন সঞ্চয়ে বড় সুখবর, EPFO-র ৮.২৫% সুদ কি পেয়েছেন? চেক করার ঝটপট উপায়

কর্মজীবী ব্যক্তিদের জন্য অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হলো এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা EPF। দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমটিতে নিজের জমানো টাকা এবং সুদের সঠিক হিসাব রাখা প্রত্যেক কর্মচারীর দায়িত্ব। সম্প্রতি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ইপিএফ আমানতের ওপর বার্ষিক ৮.২৫% হারে সুদ নির্ধারণ করেছে। এই সুদের হার সদস্যদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শুরু হয়েছে, যা কর্মীরা এখন সহজেই তাঁদের ডিজিটাল পাসবুকের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে পারবেন।
সদস্যরা তাদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য ইপিএফও-এর অফিসিয়াল ‘ইউনিফাইড মেম্বার পোর্টাল’-এ লগইন করতে পারেন। পোর্টালের ‘ইপিএফ পাসবুক’ বিভাগে গেলে সাম্প্রতিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ দেখা যাবে। যদি সুদ ইতিমধ্যে জমা হয়ে থাকে, তবে পাসবুকে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে—”৩১/০৩/২০২৬ পর্যন্ত সুদ হালনাগাদ করা হয়েছে”। এই এন্ট্রিটি নিশ্চিত করে যে, সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষের সুদ সফলভাবে অ্যাকাউন্টে যোগ করা হয়েছে। তবে সুদের হিসাব নিয়ে যদি কোনো সদস্যের মনে কোনো সন্দেহ জাগে বা কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তবে তিনি দেরি না করে EPFO-এর হেল্পলাইন বা অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা চাইতে পারেন।
ইপিএফও-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে বেতন প্রদানের ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তার দায়িত্ব হলো কর্মচারীর পিএফ চাঁদা সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া। একজন সচেতন কর্মচারী হিসেবে এটি আপনার কর্তব্য যে, আপনার বেতন থেকে কেটে নেওয়া পিএফ এবং নিয়োগকর্তার প্রদত্ত সমপরিমাণ অংশ উভয়ই নিয়মিত জমা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা। এর জন্য ইপুএফও পোর্টাল অথবা ‘UMANG’ অ্যাপ অত্যন্ত কার্যকরী। এখানে কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তার অবদানের সম্পূর্ণ রেকর্ড এবং মাসিক ব্যালেন্সের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়।
যদি কোনো কর্মচারী লক্ষ্য করেন যে তাঁর বেতন থেকে পিএফের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে কিন্তু তা অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি, তবে তৎক্ষণাৎ নিজের নিয়োগকর্তার সঙ্গে কথা বলা উচিত। আলোচনা করে সুরাহা না হলে, EPFO-এর অফিশিয়াল পোর্টাল ‘EPFiGMS’-এ অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিতভাবে নিজের অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করলে যেকোনো আর্থিক গরমিল বা ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ইপিএফও-এর অনলাইন পরিষেবার কল্যাণে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সহজতর হয়েছে। আপনার অবসরকালীন জীবনের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সঞ্চয়কে সুরক্ষিত করতে নিয়মিত ইপিএফ পাসবুক চেক করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত তদারকিই নিশ্চিত করবে আপনার উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ।