শেয়ার বাজারে বিগ বি-এর ম্যাজিক! কয়েক ঘণ্টায় ১.৬৪ কোটি টাকা মুনাফা অমিতাভ বচ্চনের

বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন কেবল রূপালী পর্দাতেই নন, বরং শেয়ার বাজারের অস্থির পিচেও এখন তুখোড় ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার তাঁর বিনিয়োগ পোর্টফোলিও এক অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষী থাকল। প্লাস্টিক পাইপ এবং স্টিলের তার প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ডিপি ওয়্যারস’-এর শেয়ার নিয়ে একটি বড়সড় লেনদেন করেন এই প্রবীণ অভিনেতা। ২৩ জুন সম্পন্ন এই লেনদেন থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি ১.৬৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছেন। এই খবরের প্রভাব সরাসরি পড়েছে শেয়ার বাজারেও। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) লেনদেনের সময় ডিপি ওয়্যারসের শেয়ারের দর ৪.৪২% বৃদ্ধি পেয়ে ২১২.৬০ টাকায় পৌঁছেছে। এমনকি দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্টকটি ৭.১২% বেড়ে ২১৮.১০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-এর বাল্ক ডিল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অমিতাভ বচ্চন প্রতিটি শেয়ার ১৯৯.৯০ টাকা দরে ৪১,৫৬৬টি শেয়ার কিনেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০.৮৪ টাকা দরে তিনি ১,২৩,৬২২টি শেয়ার বিক্রি করেন। এই সুপরিকল্পিত কেনাবেচার ফলে ৮২,০৫৬টি শেয়ারের বিপরীতে তাঁর লাভ দাঁড়িয়েছে ১.৬৪ কোটি টাকা। এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। মার্চ ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত পোর্টফোলিওতে ডিপি ওয়্যারসের ৩,২৭,৫৯০টি শেয়ার ছিল, যা কোম্পানির মোট ইক্যুইটির ২.১১%।

ডিপি ওয়্যারসের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি খুচরা বিনিয়োগকারীদের আস্থাও লক্ষ্য করার মতো। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডিং প্যাটার্ন অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৫.২২% শেয়ার রয়েছে। বিশেষ করে, ২০,৯৭৯ জন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, যাঁরা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূলধন বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের হাতে রয়েছে কোম্পানির মোট ১৮.৬৩% শেয়ার (২,৮৮৭,৬০৮টি)। বড় কোনো মিউচুয়াল ফান্ড বা বীমা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ছাড়াই খুচরা বিনিয়োগকারীদের এই বিশাল সংখ্যা প্রমাণ করে, সংস্থাটির প্রতি মানুষের আস্থা কতটা গভীর।

যদিও আর্থিক ফলাফল কিছুটা মিশ্র। ২০২৬ অর্থবর্ষের মার্চ ত্রৈমাসিকে কোম্পানির পরিচালন আয় আগের বছরের তুলনায় ৬.২৮% কমে ১২৯.০১ কোটি টাকা হয়েছে। তবে নিট মুনাফার ক্ষেত্রে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির নিট মুনাফা ১৩২.৬০% বৃদ্ধি পেয়ে ৯.৩৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। স্টকের অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর স্টকটি ৩০৬.১০ টাকার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। যদিও পরবর্তীতে বিক্রির চাপে ২ মার্চ, ২০২৬-এ শেয়ারটি তার ৫২-সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর ১২২ টাকায় নেমে এসেছিল। সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৬০% পতনের পর অমিতাভের মতো বড় বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তা এখন শেয়ারটির প্রতি বাজারে নতুন করে উৎসাহ তৈরি করেছে।