জগন্নাথ দেবের রথে ভূত-প্রেতের আনাগোনা? রথযাত্রার এই গোপন আচার না জানলে মিস করবেন!

ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ ধাম মানেই অমোঘ বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের এক মিলনস্থল। প্রতি বছর রথযাত্রার মাধ্যমে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা তাঁদের ভক্তদের দর্শন দিতে মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। এই বছর ১৬ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত হতে চলেছে এই বর্ণাঢ্য রথযাত্রা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয় পুরীর রাজপথ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি স্পর্শ করলে বা রথ টানলে ভক্তরা সব পাপ থেকে মুক্তি পান এবং মোক্ষ লাভ করেন। তবে এই রথযাত্রার ধর্মীয় আচারের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন এক প্রথা, যা শুনলে আপনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন। সেই বিশেষ প্রথাটির নাম ‘আধার পান’।
রথযাত্রা কেবল মানুষের উৎসব নয়, লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এই যাত্রায় দেবতা, ঋষি, এমনকি অদৃশ্য অপশক্তি বা ভূত-প্রেতরাও অংশ নেয়। প্রচলিত বিশ্বাসমতে, রথের নিচে থাকা বিশেষ আধ্যাত্মিক বলয় বা স্থানটিতে অশুভ শক্তির উপস্থিতি থাকে। রথযাত্রা শেষে ভগবান জগন্নাথ যখন গর্ভগৃহে ফেরার প্রস্তুতি নেন, তখন পুরীতে পালিত হয় এই ‘আধার পান’ অনুষ্ঠান। রথযাত্রার দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ—এই তিন দিন ধরে চলে এই বিশেষ আচার।
এই আচারের মূল আকর্ষণ হলো এক বিশেষ পানীয়। দুধ, তুলসী পাতা, পাকা কলা, কর্পূর, গোলমরিচ এবং দারুচিনি—এই সমস্ত পবিত্র উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় নয়টি মাটির পাত্রে ভরা এক বিশেষ সাদা রঙের পানীয়, যা দেখতে অনেকটাই ক্ষীরের মতো। এই পানীয়টি প্রস্তুত করা হয় সরাসরি দেবতাদের তৃপ্ত করার জন্য।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রসাদ বা পানীয়টি ভক্তদের জন্য পান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি মন্দিরের সেবাইত বা পুরোহিতরাও এটি মুখে দিতে পারেন না। আচার অনুযায়ী, রথে উপবিষ্ট শ্রীবিগ্রহের ঠোঁটে এই পানীয় স্পর্শ করানো হয়। এরপর সেই পানীয় রথের চারিদিকে এবং রাস্তায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেন এই বিধিনিষেধ? লোকবিশ্বাস বলে, এই প্রসাদ কেবল জাগতিক জগতের মানুষের জন্য নয়, বরং এই পৃথিবীর বাইরে যে সমস্ত অদৃশ্য শক্তি বা অপশক্তি রয়েছে, তাদের তুষ্ট করার জন্যই এই ব্যবস্থা। এই পানীয় ছিটিয়ে দিয়ে তাদের শান্ত করা হয় যাতে তারা যাত্রাপথে কোনো বিঘ্ন না ঘটায়। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভক্ত যদি ভুলবশতও এই প্রসাদ গ্রহণ করেন, তবে তাকে গুরুতর পাপের ভাগিদার হতে হয়। লোক এবং পরলোকের অদৃশ্য শক্তিদের সন্তুষ্ট রাখার এই অনন্য প্রথাটিই জগন্নাথ সংস্কৃতির এক রহস্যময় ও আকর্ষণীয় দিক।