বিয়ে হবে না জেনেও প্রেমে অভিনয়! হবু স্ত্রীর জন্মদিনের উপহার হিসেবে মিলল মৃত্যুফাঁদ

পুণের ২৫ বছর বয়সি তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা দেশ। যে মানুষটিকে ঘিরে রাজকীয় বিয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন কেতন, সেই হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েলই (২০) এখন তাঁর খুনের প্রধান অভিযুক্ত। গত ১৮ জুন লোনাভলার লোহাগড় দুর্গের ৪০০ ফুট গভীর খাদ থেকে কেতনের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা মনে হলেও, তদন্তে নেমে পুলিশ এমন এক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করেছে যা যেকোনো ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানায়।

ঘটনার সূত্রপাত কেতনের বাগদত্তা সিয়ার ২০তম জন্মদিনকে কেন্দ্র করে। বিয়ের আগে হবু স্ত্রীর জন্মদিন স্মরণীয় করতে প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কেতন। মহাবালেশ্বরের রিসোর্টে ৪০টি ঘর বুক করা থেকে শুরু করে বিলাসবহুল উপহার—সবই ছিল সিয়ার জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি হুডখোলা গাড়িতে ফুলের তোড়া দিয়ে সিয়াকে সারপ্রাইজ দিচ্ছেন কেতন, আর সিয়া তাঁকে জড়িয়ে ধরছেন। কেউ ভাবতেও পারেনি যে, এই ভালোবাসার মানুষটিই আড়ালে খুনের জাল বুনছেন।

তদন্তে জানা গিয়েছে, সিয়া দীর্ঘ এক বছর ধরে চেতন চৌধুরী (২২) নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেম করছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, সিয়া ও চেতন তাঁদের সম্পর্কের পথে কেতনকে ‘কাঁটা’ হিসেবে দেখেছিল। তাই পরিকল্পনা করে ১৮ জুন কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দেয় তারা। এর আগে ১৪ জুনও তারা একই ছক কষেছিল, কিন্তু সেবার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

সবথেকে অবাক করা বিষয় হলো, মৃত্যুর পরের দিন ১৯ জুন—অর্থাৎ নিজের জন্মদিনে—সিয়া ইনস্টাগ্রামে কেতনের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে শোকের নাটক করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “তুমি আমার জন্মদিনেই আমাকে ছেড়ে চলে গেলে? আমাদের বিয়ের এত কাছে এসে কেন এমন করলে?” এই পোস্টটি ছিল মূলত পুলিশ ও পরিবারকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল। কিন্তু কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মুখে পড়ে শেষমেশ ভেঙে পড়েন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন।

নিহত কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, কেতনের মনে সিয়ার আচরণ ও চেতনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। অভিযুক্ত সিয়া ও চেতনকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। নভেম্বরের রাজকীয় বিয়ের আসরের বদলে এখন লোহাগড়ের দুর্গের ঠান্ডা পাথরে কেতনের জীবনের অকাল পরিসমাপ্তি ঘটল, যা আজও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও নেটিজেনরা। এই ঘটনা নারী-পুরুষের সম্পর্কের আড়ালে লুকানো এক অন্ধকার দিককে ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এল।