মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে বিস্ফোরক অভিযোগ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা!

রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে, খোদ ভবানীপুরের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সম্পত্তি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৮০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রঞ্জনা হাজরা সম্প্রতি জনতার দরবারে উপস্থিত হয়ে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে করা তাঁর এই আবেদন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ভুক্তভোগী রঞ্জনা হাজরার অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের প্রচেষ্টা চলছে। রঞ্জনার দাবি, দীর্ঘদিনের এই লড়াই কেবল আইনি জটিলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তাঁকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি এবং ভয়ভীতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
রঞ্জনা হাজরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ঘটনার জেরে তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিনের পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সম্পত্তি রক্ষার লড়াইয়ে নামতে গিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় ক্ষেত্রেই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় স্তরে একাধিকবার সাহায্যের আবেদন করেও কোনো সুরাহা না মেলায়, শেষমেশ তিনি রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
ভবানীপুরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং হাই-প্রোফাইল এলাকায় যখন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখলের এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের এলাকায় এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সম্পত্তি সংক্রান্ত এই বিরোধের আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সরকারি তথ্য মেলেনি। অভিযোগকারিণী রঞ্জনা হাজরার অভিযোগের সত্যতা এবং এর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় সচেতন নাগরিক সমাজ। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।