ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লবের রূপকার! নকরি ডট কম-এর মালিকের সাফল্যের নেপথ্যের কাহিনী

ভারতীয় ইন্টারনেট ও স্টার্টআপ জগতের অন্যতম সফল নাম ইনফো এজ (Info Edge)-এর প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীব বিখচান্দানি। ২০০৭ সাল থেকে তিনি যে দূরদর্শী বিনিয়োগের যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা আজ ভারতীয় ব্যবসায়িক মহলে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। নকরি ডট কম (Naukri.com)-এর মূল এই সংস্থা মাত্র ৪,৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বর্তমানে ৪১,৩০০ কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছে, যা তাঁর বিনিয়োগের প্রায় ৮.৪ গুণ।

সঠিক সময়ে সঠিক বাজি জোম্যাটো (Zomato) এবং পলিসিবাজার (PolicyBazaar)-এর মতো সংস্থা যখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তখন তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন সঞ্জীব বিখচান্দানি। যখন জোম্যাটোর মূল্য ছিল মাত্র ৯.৪ কোটি টাকা এবং পলিসিবাজারের ২১ কোটি টাকা, তখনই তিনি সেখানে মূলধন বিনিয়োগ করেন। আজ এই দুই কোম্পানিই শেয়ার বাজারের অন্যতম শক্তিশালী খেলোয়াড়। কনজিউমার টেকনোলজি সেক্টরের ৪৫টি কোম্পানিতে ২,৭৫৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বর্তমানে তার মূল্য ৩৭,২১৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এআই (AI) প্রযুক্তিতে দূরদর্শী বিনিয়োগ চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির ঢেউ ওঠার বহু আগেই ২০২০ সাল থেকে এআই ও ডিপটেক স্টার্টআপে বড় বাজি ধরেছিলেন বিখচান্দানি। সংস্থাটি বর্তমানে ৫৪টি এআই ও ডিপটেক স্টার্টআপে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র এআই খাতের ২৮টি কোম্পানির বর্তমান বাজারমূল্য ১,২৬৮ কোটি টাকা। ১৫টি স্টার্টআপ বিশ্বমানের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন তহবিল সংগ্রহ করতেও সক্ষম হয়েছে।

সাফল্যের নেপথ্যে ‘নকরি ডট কম’ ইনফো এজ-এর এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো তাদের মূল ব্যবসা ‘নকরি ডট কম’। এই ব্যবসা থেকে আসা ধারাবাহিক নগদ প্রবাহ কোম্পানিটিকে অন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের মতো বাইরের তহবিলের ওপর নির্ভরশীল হতে দেয়নি। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তারা বাইরের কোনো চাপ ছাড়াই সঠিক স্টার্টআপ বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভারতের বর্তমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের প্রশংসা করে বিখচান্দানি জানিয়েছেন, তাদের পোর্টফোলিওর স্টার্টআপগুলো ভারত সরকারের ‘ইন্ডিয়াএআই মিশন’ বা আরডিআই (RDI) প্রকল্পগুলো থেকে বড় ধরনের সহায়তা পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, Gnani.ai ১৭৭ কোটি টাকার কম্পিউট ক্রেডিট পেয়েছে, যা ভারতীয় প্রযুক্তির বিশ্বজয়ের পথে এক বড় মাইলফলক।

সঞ্জীব বিখচান্দানির মতে, ভারত বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আগামী দিনে বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্মভূমি হবে এই দেশই।