এআই বিপ্লব: ইনফোসিসের আগামী দশকের রণকৌশল জানালেন নন্দন নিলেকানি

বর্তমান প্রযুক্তির দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা। তবে এই ভয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভিন্নধর্মী ও ইতিবাচক বার্তা দিলেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি। কোম্পানির ৪৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, এআই কোনোভাবেই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং তাদের কাজের পরিধি ও উৎপাদনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এআই-ফার্স্ট পরিষেবায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ নিলেকানি জানান, ইনফোসিস ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এআই-ফার্স্ট’ পরিষেবা খাতের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজার ধরতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “এআই আমাদের মতো কোম্পানিগুলোকে সরিয়ে দেবে না; বরং যারা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেবে, তারাই এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকবে।”
প্রস্তুতি ও কাজের খতিয়ান: ইনফোসিস এআই বিপ্লবের মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেন:
শীর্ষ গ্রাহকদের আস্থা: ইনফোসিসের শীর্ষ ২০০ গ্রাহকের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই বর্তমানে এআই-সম্পর্কিত প্রকল্পে কাজ চলছে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: উন্নত কোডিং টুল ব্যবহার করে কোম্পানি তাদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে।
জটিলতা দূরীকরণ: এন্টারপ্রাইজ লেভেলে এআই ব্যবহারের জন্য সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা গভর্নেন্স এবং মজবুত আর্কিটেকচার প্রয়োজন—আর এই জটিল কাজগুলো সামলানোর জন্য গ্রাহকরা ইনফোসিসের ওপরই ভরসা রাখছেন।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নন্দন নিলেকানির মতে, জেনারেটিভ এআই (GenAI) আসার তিন বছর পরেও ইনফোসিস আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি মনে করেন, বড় কোম্পানিগুলোর পুরনো সিস্টেম আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে এআই এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই ইনফোসিস আগামী দশকের জন্য নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
এক কথায়, প্রযুক্তির এই নতুন যুগে আতঙ্কের চেয়েও বড় সুযোগের দিকেই নজর রাখছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই আইটি সংস্থা।