রাজ্য বাজেটে নিয়োগের মহোৎসব: ১ লক্ষ সরকারি পদে নিয়োগের ঘোষণা বিজেপি সরকারের

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হলো। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত চলতি আর্থিক বছরে রাজ্যে মোট ১ লক্ষ সরকারি পদে নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই জনকল্যাণমুখী বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা—এই তিন স্তম্ভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের বিশদ খতিয়ান

বাজেটে ঘোষিত ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে যে বিভাজন দেওয়া হয়েছে, তা নিম্নরূপ:

  • শিক্ষক ও অধ্যাপক: মোট নিয়োগের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার পদ সংরক্ষিত থাকছে শিক্ষাখাতে।

  • শিক্ষাকর্মী: ১ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।

  • পুলিশ: ২০ হাজার শূন্যপদে পুলিশের নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হবে।

  • অন্যান্য: বাকি পদগুলিতে অন্যান্য দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে।

নারী ক্ষমতায়নে বিশেষ পদক্ষেপ

নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঘোষিত শূন্যপদগুলির মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে মহিলাদের জন্য, যা রাজ্যের নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজেটের অন্যান্য হাইলাইটস:

১. ডিএ বৃদ্ধি: সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মহার্ঘভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে, যা ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ২. কৃষকদের জন্য বরাদ্দ: কৃষিক্ষেত্রে ঢালাও বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৩. পরিকাঠামো ও উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন থেকে শুরু করে সুন্দরবন এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্পাদকের মন্তব্য

বিজেপি সরকারের এই প্রথম বাজেটকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘আত্মবিশ্বাসী বাজেট’ হিসেবে দেখছেন। একদিকে বেকারত্ব দূরীকরণে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ডিএ বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ১ লক্ষ পদে নিয়োগের এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে তা রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।