‘সেক্রেটারি কি আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন?’ চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এসএসসি-র ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) দীর্ঘসূত্রতা এবং গড়িমসির জেরে চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন ১২৪১ জন প্রার্থীর নিয়োগ সম্পন্ন হচ্ছে না, তা নিয়ে কার্যত ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে কমিশনকে।

বিচারপতির হুশিয়ারি: ‘ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না’

উচ্চ প্রাথমিকের এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা নিয়ে এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়। কমিশনের সেক্রেটারিকে উদ্দেশ্য করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “সেক্রেটারি কি আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন? তাঁর সময় নেই, তিনি ব্যস্ত—এই অজুহাতে আমরা ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে নির্দেশ কার্যকর করতে বলেছিলাম। তবুও বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।”

বিচারপতি আরও বলেন, “গত দু’বছরের বেশি সময় ধরে ১২৪১ জন তরুণ-তরুণী আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ার কারণে ভবঘুরের মতো ঘুরছেন। তাঁরা কবে চাকরি পাবেন? যদি অবিলম্বে এই নির্দেশ পালন না হয়, তবে আদালত অন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”

সমাধানের আশ্বাস এজি-র

আদালতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাজ্যের নবনিযুক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি আদালতের কাছে ১৫ দিনের সময় প্রার্থনা করে জানান, “মহামান্য আদালত, আমাদের অন্তত ১৫ দিন সময় দেওয়া হোক। আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

১ হাজার ২৪১ জন প্রার্থীর জন্য ইতিমধ্যেই ১ হাজার ১৭৭টি শূন্যপদ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিয়োগ কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা নিয়ে কমিশন কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। রাজ্যের আর্জি মেনে ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ওই দিনই মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের এই কড়া অবস্থান চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন করে আশার আলো দেখালেও, ৮ জুলাই কমিশন কী রিপোর্ট জমা দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষামহল।