ইডির জালে প্রাক্তন ওসি ও তাঁর স্ত্রী: কয়লা পাচার-কাণ্ডে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির হদিশ!

কয়লা পাচার-কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে পুলিশ-মাফিয়া আঁতাতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, বারাবনি থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল এবং তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় সাত কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে এখন চরম অস্বস্তিতে প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক।

যেভাবে চলত ‘প্রোটেকশন মানি’র খেলা

তদন্তকারী সংস্থা ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি কয়লা পাচার চক্রের মূল হোতা এবং বিভিন্ন কয়লা মাফিয়াদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা পৌঁছত মনোরঞ্জন মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে। ইডির দাবি:

  • ‘গুন্ডা ট্যাক্স’: বেআইনি কয়লা বোঝাই ট্রাকগুলিকে পুলিশি ঘেরাটোপে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’।

  • হাওলা যোগ: এই কালো টাকা কেবল ব্যাংকেই নয়, বরং ড্রাইভারের অ্যাকাউন্টে হাতবদল করা থেকে শুরু করে হাওলা চক্রের মাধ্যমেও পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

  • সন্দেহভাজন স্ত্রী: মনোরঞ্জন মণ্ডলের স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বড় অঙ্কের (৫০ লক্ষ বা ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত) লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে, যা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

মাফিয়াদের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ

ইডি তদন্তে চিন্ময় মণ্ডল নামে এক কয়লা মাফিয়ার সঙ্গে প্রাক্তন ওসির কথোপকথনের ডিজিটাল প্রমাণও উদ্ধার করেছে। এই বার্তার সূত্র ধরেই স্পষ্ট হয়, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে এই পাচার চক্রকে সুরক্ষা দেওয়া হতো। গত সপ্তাহে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে এসে বয়ানে অসঙ্গতির কারণে অবশেষে গ্রেফতার হতে হয় মনোরঞ্জন মণ্ডলকে।

পুলিশ মহলে বড়সড় ঝাঁকুনি

ইডির অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে আসানসোল, রানিগঞ্জ, বীরভূম ও বাঁকুড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাফিক ও থানা স্তরের অনেক পুলিশ কর্মীই এই কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। গন্তব্যে কয়লা পাচার করার বিনিময়ে এই ‘কমিশন’ বা ‘লভাংশ’ পৌঁছে যেত উপরতলার প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশ আধিকারিকদের পকেটে।

এখন ইডির মূল লক্ষ্য—এই ৭ কোটি টাকার লেনদেনের প্রতিটি স্তরের হদিশ বের করা এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা। তদন্তে ভবিষ্যতে আরও বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।