অলরাউন্ডারদের উত্থানেই বাংলার সুদিন ফিরবে, আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক শাহবাজ আহমেদ

সম্প্রতি সমাপ্ত বেঙ্গল টি-২০ ক্রিকেট লিগে শ্রাচী রাঢ় টাইগার্সের শিরোপা জয়ের নেপথ্যে ছিল দলের অলরাউন্ডারদের দাপট। চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক শাহবাজ আহমেদ মনে করছেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা একঝাঁক প্রতিভাবান অলরাউন্ডার ভবিষ্যতে সৈয়দ মুস্তাক আলি বা বিজয় হাজারে ট্রফিতে বাংলা সিনিয়র দলকে বড় সুবিধা দেবে।

ব্যাটিং গভীরতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

ফাইনালে ৪৬ বলে অপরাজিত ৮৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ট্রফি জেতানোর পর শাহবাজ বলেন, “বর্তমানে রঞ্জি বা অন্যান্য ট্রফিতে সেই দলগুলোই চ্যাম্পিয়ন হয় যাদের ১০ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং গভীরতা থাকে। অলরাউন্ডারদের উপস্থিতিতে অধিনায়কের হাতে যেমন বোলিংয়ের বিকল্প বাড়ে, তেমনই টপ-অর্ডারের ব্যাটাররাও বাড়তি চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারেন।”

এবার বেঙ্গল টি-২০ লিগে রোহিত কুমার, রাহুল প্রসাদ, করণ লাল, তৌফিকউদ্দিন মন্ডল, রবি কুমার, প্রয়াস রায় বর্মন এবং সূরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের মতো তরুণদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। শাহবাজের মতে, এই তরুণদের হাত ধরেই বাংলা ক্রিকেট দলে অলরাউন্ডারের যে দীর্ঘদিনের অভাব ছিল, তা অনেকটাই পূরণ হবে।

চাপমুক্ত ড্রেসিংরুমই সাফল্যের রহস্য

গত বছর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট মিস করলেও, এবার নেতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন শাহবাজ। টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট হাতে প্রায় ৩০০ রান এবং বল হাতে ১২টি উইকেট নিয়ে নিজেও ছিলেন সাফল্যের শিখরে। তিনি জানান, দলের কোনো ক্রিকেটারের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেওয়াই ছিল তাদের সাফল্যের অন্যতম রহস্য। ক্রিকেটাররা চাপমুক্ত থাকায় টুর্নামেন্টটি দারুণভাবে উপভোগ করেছেন।

এসজি বল ও রানের বৃষ্টি

চলতি বেঙ্গল টি-২০ লিগে প্রচুর রানের দেখা পেয়েছেন দর্শকরা। এই রানের বৃষ্টির পেছনে এসজি টেস্ট বলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শাহবাজ বলেন, “এই বলটা বর্তমানে সেরা। উইকেট যত পুরনো হয়, বল ব্যাটে তত ভালোভাবে আসে।” ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের শুরুতে কোকাবুরার বদলে এসজি বলের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা হলেও, ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থনের বিষয়টি শাহবাজের বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হলো।

বাংলা ক্রিকেটের তরুণ তুর্কিদের এমন উত্থান যে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরবর্তী মরসুমে বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা।