নিষিদ্ধ মদের বিকল্প এখন মরণ নেশা! বিহারে মাদক কারবার ও আসক্তি নিয়ন্ত্রণে বড় ধাক্কা

বিহারে মদ্যপান নিষিদ্ধ হওয়ার এক দশক পার হয়েছে। কিন্তু রাজ্যকে পুরোপুরি আসক্তিমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা যেন অধরাই থেকে যাচ্ছে। মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিহারের বর্তমান চিত্র বলছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকাসক্তির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মদের জায়গায় এখন জায়গা করে নিয়েছে হেরোইন, স্ম্যাক, ব্রাউন সুগার এবং বিভিন্ন সিন্থেটিক ড্রাগ।
আসক্তির ধরন বদলেছে, বেড়েছে ঝুঁকি
সমাজকর্মীদের মতে, মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসক্তির ধরনকে বদলে দিয়েছে। একসময়ে মদের ওপর নির্ভরতা থাকলেও, বর্তমানে সহজলভ্য মাদক এবং নেশাজাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারের হার বহুগুণ বেড়েছে। হাজিপুরের এক প্রাক্তন নেশাসক্ত ব্যক্তি রাজ কুমারের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, সহকর্মীদের প্ররোচনায় সহজেই তারা এই মরণনেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে। স্ম্যাক বা ব্রাউন সুগারের মতো মাদক হাতের কাছে পাওয়ায় তরুণরা নেশামুক্তি কেন্দ্রমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে।
পরিসংখ্যান যা বলছে: প্রশাসন বনাম বাস্তবতা
বিহার সরকারের ‘প্রহিবিশন অ্যান্ড এক্সাইজ ডিপার্টমেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, মদ নিষিদ্ধ হলেও এর পাচার বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনার হার কমেনি, বরং বেড়েছে।
বাজেয়াপ্ত হওয়ার তথ্য: ২০১৬-১৭ সালে যেখানে ২১.২৫ লক্ষ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৭৫ লক্ষ লিটারে।
২০২৬ সালের চিত্র: শুধুমাত্র মে মাসেই ১৭.৩৬ লক্ষ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন।
বৃদ্ধির হার: ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার হার ৯ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে তা আরও ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজ্যে মদের চোরাচালান এবং ব্যবহার এখনও বহাল তবিয়তে চলছে।
সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
নেশামুক্তি কেন্দ্রের সাথে যুক্ত সমাজকর্মী রাসবিহারীর মতে, শুধুমাত্র রিহ্যাব বা পুনর্বাসন কেন্দ্র দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এটি একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনকে একত্রিত হয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে হবে। কঠোর আইনের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
মদ নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল বিহারকে আরও সুস্থ ও সুন্দর করা। কিন্তু বাস্তবে যখন মাদকাসক্তি তরুণ প্রজন্মকে গ্রাস করছে, তখন প্রশাসনিক নজরদারি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটি নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।