রাজ্য বাজেটে পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ নিয়ে অস্পষ্টতা, সরব বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পরপরই রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের পেশ করা ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার বাজেটে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে গ্রামোন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু কল্যাণে নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকলেও, পরিকাঠামো নির্মাণের খতিয়ান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
পরিকাঠামোয় বরাদ্দ কোথায়? প্রশ্ন ঋতব্রতর
বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের বাজেটে পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আর্থিক চিত্র (Figure) দেওয়া হয়নি। পরিকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া মানুষের হাতে টাকা পৌঁছানো সম্ভব নয়, আর মানুষের হাতে টাকা না থাকলে ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শিল্পের ক্ষেত্রে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। বিমানবন্দর নির্মাণের মতো প্রকল্পের জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। আমরা বিরোধী দলে আছি বলে সবকিছুর বিরোধিতা করছি না, কিন্তু উন্নয়নের পরিকাঠামো নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।”
ইতিবাচক দিক ও সাধুবাদ
তবে বাজেট নিয়ে পুরোপুরি নেতিবাচক অবস্থান নেননি ঋতব্রত। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (DA) বৃদ্ধি এবং নতুন ১ লক্ষ নিয়োগের ঘোষণাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি, মদের দোকান সংক্রান্ত নতুন নীতি এবং চা বাগানের জমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কমানোর উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সংখ্যালঘু বাজেট নিয়ে শাসকদলের অন্দরেই ক্ষোভ
এদিকে, বাজেট নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন আখরুজ্জামানও। তিনি বাজেট প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সব কা সাথ, সব কা বিকাশ-এর নীতি এখানে কার্যকর হয়নি। সংখ্যালঘু দপ্তরের বরাদ্দ কমানোকে আমি বিমাতৃসুলভ আচরণ হিসেবেই দেখছি। মনে হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে।”
বাজেটের উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ (এক নজরে):
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন: ৫১,৮৩৬.৫৫ কোটি টাকা।
কৃষি: ৮,৫৬৫.৮৪ কোটি টাকা।
শিল্প ও বাণিজ্য: ৩,২৬৬.৫৯ কোটি টাকা।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন: ২,১৬৫.৪২ কোটি টাকা।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: ১,৮২১.৫২ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতার এই প্রশ্নগুলি রাজ্যের শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।