Bank না NBFC? কোথা থেকে ঋণ নিলে বেশি সুবিধা, জানুন ৫টি পার্থক্য

বাড়ি, গাড়ি বা ব্যবসা—যেকোনো প্রয়োজনে ঋণের কথা ভাবলে প্রথমেই যে প্রশ্নটি মাথায় আসে, তা হলো—ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়া ভালো নাকি NBFC (নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানি) থেকে? উভয়ই ঋণ প্রদানের মাধ্যম হলেও এদের কার্যপদ্ধতি, সুদের হার এবং শর্তাবলীতে রয়েছে বিস্তর ফারাক। আপনার আর্থিক প্রয়োজন ও পরিশোধ ক্ষমতার নিরিখে কোনটি সঠিক, তা আগেভাগে বুঝে নেওয়া জরুরি।

ব্যাঙ্ক ও NBFC-এর মধ্যে ৫টি বড় পার্থক্য:

১. সুদের হার: ব্যাঙ্ক সাধারণত গ্রাহকের আমানত থেকে তহবিল সংগ্রহ করে, তাই তাদের ঋণের সুদের হার তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে, NBFC-দের বাজার থেকে বেশি খরচে তহবিল জোগাড় করতে হয়, তাই তাদের ঋণের সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে।

২. অনুমোদনের গতি: জরুরি প্রয়োজনে NBFC-রা এগিয়ে থাকে। ডিজিটাল KYC ও অটোমেটেড প্রসেসের ফলে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঋণ অনুমোদন করতে পারে। ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা বেশি সময় লাগে।

৩. যোগ্যতার শর্ত: ব্যাঙ্কের নিয়মাবলী সাধারণত কঠোর হয় (ভালো ক্রেডিট স্কোর ও স্থায়ী আয়ের রেকর্ড প্রয়োজন)। NBFC-রা এই ক্ষেত্রে অনেক বেশি নমনীয়। নতুন চাকরিজীবী, স্বনিযুক্ত ব্যক্তি বা ছোট ব্যবসায়ীরা যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি সীমিত, তাঁরা NBFC থেকে সহজে ঋণ পেতে পারেন।

৪. ঋণের ধরণ: ব্যাঙ্ক মূলত বড় ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ (যেমন হোম লোন) দেওয়ার ক্ষেত্রে সেরা। অন্যদিকে, NBFC-রা গোল্ড লোন, ব্যবহৃত গাড়ির ঋণ বা মাইক্রোফিন্যান্সের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়।

৫. নথিপত্র ও স্বচ্ছতা: ব্যাঙ্ক ঋণের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর হয়। NBFC-রা নথিপত্রের বালাই কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত?

  • ব্যাঙ্ক বেছে নিন যদি: আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকে, স্থায়ী আয় থাকে এবং আপনি দীর্ঘমেয়াদে কম সুদে ঋণ নিতে চান। বড় অঙ্কের হোম লোনের জন্য ব্যাঙ্কই সেরা।

  • NBFC বেছে নিন যদি: আপনার খুব দ্রুত টাকা প্রয়োজন হয়, ক্রেডিট স্কোর খুব শক্তিশালী না হয়, অথবা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে অসুবিধার সম্মুখীন হন।

ঋণ নেওয়ার আগে এই ৫টি বিষয়ে সতর্ক থাকুন: শুধু সুদের হার নয়, ঋণ নেওয়ার আগে প্রসেসিং ফি, ফোরক্লোজার চার্জ (আগে ঋণ মিটিয়ে দেওয়ার খরচ), বিলম্বে EMI পরিশোধের জরিমানা এবং ঋণের মোট খরচ অবশ্যই যাচাই করে নিন। অনেক ক্ষেত্রে কম সুদের ঋণের সঙ্গে লুকানো চার্জ বা প্রসেসিং ফি যোগ হয়ে মোট ঋণের বোঝা বেড়ে যায়।

মনে রাখবেন, RBI-এর নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নীতি ভিন্ন হয়। তাই যেকোনো চুক্তিতে সই করার আগে ঋণের মোট খরচ ও আপনার EMI দেওয়ার ক্ষমতা বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।