ভারতের সামুদ্রিক শক্তিতে ঐতিহাসিক দিন! একসঙ্গে তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ পেল নৌবাহিনী

ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এই সপ্তাহটি একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করতে কলকাতার নৌবহরে যুক্ত করা হচ্ছে তিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক। সূত্রের খবর, এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতৃত্বের। এই অন্তর্ভুক্তি কেবল ভারতের সামরিক শক্তিকেই বাড়াবে না, বরং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

১. আইএনএস দুনাগিরি (INS Dunagiri): এটি ভারতের গর্ব ‘স্টিলথ গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট’। এই জাহাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে এটি শত্রুর রাডারে ধরা না পড়েই লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এর প্রধান অস্ত্র হলো বিধ্বংসী ‘ব্রহ্মোস’ সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা শব্দের চেয়ে তিন গুণ দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। এছাড়া এতে রয়েছে অত্যাধুনিক টর্পেডো ব্যবস্থা, যা একে সমুদ্রযুদ্ধের ময়দানে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে।

২. আইএনএস অগ্রয় (INS Agray): একে বলা হচ্ছে ‘সাবমেরিনের নীরব ঘাতক’। এটি একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট (ASW-SWC)। উপকূলবর্তী অগভীর এলাকায় শত্রু সাবমেরিন খুঁজে বের করা এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য এটি বিশেষভাবে নির্মিত। বর্তমানে পাকিস্তান তার ‘হ্যাংগর-শ্রেণির’ সাবমেরিন ব্যবহার করে ভারতের উপকূলীয় সীমানায় যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে আইএনএস অগ্রয় এক বড় হাতিয়ার। এর উন্নত সোনার (Sonar) সিস্টেম ঘোলাটে বা উত্তাল জলেও শত্রুর অতি মৃদু শব্দ-সংকেতও ধরে ফেলতে পারে। এতে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানার মতো টর্পেডো ও রকেট লঞ্চার রয়েছে।

৩. আইএনএস সংশোধক (INS Sandhayak-class/Survey Vessel): এটি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র-উৎক্ষেপণকারী জাহাজ না হলেও যুদ্ধের ময়দানে অপরিহার্য। এটি একটি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপকারী জাহাজ। জলের গভীরতা, তলদেশের ভূ-প্রকৃতি এবং নিরাপদ যাত্রাপথের নিখুঁত মানচিত্র তৈরিতে এটি পারদর্শী। যুদ্ধের সময় সাবমেরিন বা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের গতিপথ নির্ধারণে এটি ‘তৃতীয় নয়ন’ হিসেবে কাজ করে।

এই তিনটি জাহাজের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীকে এক ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা প্রদান করবে। আইএনএস দুনাগিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ ও আকাশে আধিপত্য নিশ্চিত করবে, আইএনএস অগ্রয় জলের নিচের শত্রুদের দমনে কাজ করবে এবং আইএনএস সংশোধক নৌবাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে। সব মিলিয়ে, এই নতুন সংযোজন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।