জুবিন গর্গ কি বিস্মৃতির পথে? গুয়াহাটির আইকনিক মিউরাল মুছে ফেলার ঘটনায় গর্জে উঠলেন স্ত্রী গরিমা

কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের প্রয়াণের পর পেরিয়ে গেছে ৯টি মাস। তবুও তাঁর অকাল প্রয়াণের শোক যেন আজও ফিকে হয়নি অনুরাগীদের মন থেকে। এর মধ্যেই গুয়াহাটির গণেশগুড়ি ফ্লাইওভারের নিচে থাকা জুবিনের এক আবেগঘন মিউরাল মুছে ফেলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শিল্পীর স্মৃতি বিজড়িত ‘কমরেড নেভার ডাই’ (Comrade Never Die) বার্তা সম্বলিত সেই শিল্পকর্মটি গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (জিএমসি) সরিয়ে ফেলায় রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সঙ্গীত জগতের আইকন জুবিন গর্গের প্রয়াণে যখন সমগ্র অসম শোকস্তব্ধ হয়েছিল, তখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নানা স্মারক গড়ে তোলা হয়েছিল। গণেশগুড়ি ফ্লাইওভারের নিচে থাকা মিউরালটি ছিল জুবিনের প্রতি অনুরাগীদের গভীর শ্রদ্ধার একটি প্রতীক। প্রতিদিন হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর কাছে এটি ছিল এক অবিচ্ছেদ্য ল্যান্ডমার্ক। সেই শিল্পকর্ম মুছে ফেলার ঘটনাটি শিল্পীর স্ত্রী গরিমা সইকীয়া গর্গকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়ায় গরিমা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি শিল্পকর্ম শহরের দৃশ্যমানতায় কীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? তিনি দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, “শহর থেকে জুবিনের প্রতিকৃতি মুছে ফেলা সম্ভব হলেও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকা ভালোবাসা ও আবেগ মুছে ফেলা অসম্ভব।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জিএমসি-র এই সিদ্ধান্তে তিনি ব্যথিত হলেও তাঁর মনে কোনো তিক্ততা নেই। তাঁর মতে, যারা শিল্পীর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা অনুভব করেন, তাঁরা কোনো দৃশ্যমান প্রতীকের ওপর নির্ভরশীল নন। তাঁদের হৃদয়ে জুবিন চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।
এই মিউরালটি অনুরাগীদের কাছে কেবল একটি সাধারণ দেওয়ালচিত্র ছিল না, বরং এটি ছিল জুবিন গর্গের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের একটি অংশ। বিশেষ করে এতে লেখা “কমরেডরা কখনও মরেন না” কথাটি অসমের সাংস্কৃতিক প্রভাব ও জুবিনের শৈল্পিক সত্তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। মিউরালটি সরিয়ে ফেলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। সমর্থকরা এটিকে জুবিনের সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, প্রশাসনিক কাজে সৌন্দর্যায়ন প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই জনপ্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
জুবিন গর্গ কেবল একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসমের অগণিত মানুষের আবেগ ও চেতনার প্রতীক। সময়ের সাথে সাথে মানুষের স্মৃতি হয়তো ধূসর হয়, কিন্তু জুবিনের মতো শিল্পীদের কাজ ও তাঁদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কোনো মিউরাল বা স্মারকের ওপর টিকে থাকে না। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, একজন সাংস্কৃতিক আইকনের স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলার আগে প্রশাসন কেন সাধারণ মানুষের আবেগের কথা ভাবল না? এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, জুবিনের প্রতি অসমের মানুষের ভালোবাসা আজও কতটা অটুট এবং আবেগী।