পাওয়ার কি হু হু করে বাড়ছে? চশমা চিরতরে বিদায় জানাতে আজই এই সহজ অভ্যাসগুলি রুটিনে যোগ করুন!

চোখের পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের জেরে বর্তমান প্রজন্মের বড় একটা অংশের মানুষের চোখেই ছোটবেলা থেকেই চশমার মোটা লেন্সঁ চেপে বসেছে। হাত বাড়ালেই যখন চোখ ঝাপসা এবং চশমা ছাড়া যেন পৃথিবীটাই অন্ধকার, তখন এই কৃত্রিম প্রসাধন বা দৃষ্টি সহায়ক যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো অনেকের কাছেই এক প্রকার অসম্ভব চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়। তবে সামান্য কিছু সচেতন জীবনশৈলী, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং চোখের সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনিও প্রাকৃতিকভাবে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে পারেন এবং এই চিরতরে চশমা থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।

চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চশমার হাত থেকে রেহাই পেতে প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। আমাদের দৈনন্দিন ডায়েটে ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, ব্রকোলি, পেঁপে, বাদাম, এবং সামুদ্রিক মাছ চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ভেজানো কাঠবাদাম এবং মৌরি ও মিছরির গুঁড়ো একসঙ্গে সেবন করলে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায় বলে প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও উল্লেখ রয়েছে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি চোখের পেশির নমনীয়তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে নিয়মিত কিছু বিশেষ আই এক্সারসাইজ বা চোখের ব্যায়াম করা বাঞ্ছনীয়। যেমন—‘পামিং’ পদ্ধতি, যেখানে হাতের তালু ঘষে চোখের ওপর হালকাভাবে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে রেখে পেশিগুলোকে আরাম দেওয়া হয়। এ ছাড়া চোখের মণি ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং বিপরীত দিকে গোল করে ঘোরানো বা চোখের পলক দ্রুত ফেলার ব্যায়াম চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ করতে দারুনভাবে সাহায্য করে।

ডিজিটাল স্ক্রিনের নীল আলো থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত ফলদায়ক। প্রতি ২০ মিনিট অন্তর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে থাকা উচিত। পর্যাপ্ত জল পান করা এবং দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করাও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত নিয়মের অভ্যাসই আপনার চোখকে সুস্থ রাখতে এবং চশমার ভারী ফ্রেম থেকে চিরকালের মতো মুক্তি দিতে পারে।