বালি খাদান দখল নিয়ে আদিম হিংসা, ফরচুনার গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে বিজেপি নেতাকে পুড়িয়ে মারল দুষ্কৃতীরা

ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলার সোনহাট থানার অন্তর্গত নওগাইন গ্রামে বালি খাদান ও পরিবহনের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ঘটল এক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে প্রাক্তন জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি তথা স্থানীয় প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ভরত সিং ওরফে ‘লাল্লা সিং’-কে গাড়িতে আটকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল প্রতিপক্ষ ত্রিপাঠী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় কেবল ভরত সিং নন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর সঙ্গী বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিংয়ের। গুরুতর আহত অবস্থায় বিলাসপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মায়াঙ্ক সিং।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালি খাদানের সরকারি চুক্তি ও অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভরত সিংয়ের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে এক সমঝোতা বৈঠকের অজুহাতে ভরত সিংকে ডেকে আনা হয়। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে রাস্তা আটকে ফরচুনার গাড়িটিকে দু’টি ট্রাকের মাঝে পজিশন নিয়ে আটকে দেওয়া হয়। এরপরই গাড়িতে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। গাড়ির ভেতর থেকে বেরোনোর সুযোগটুকুও পাননি ভরত সিং।

তদন্তে নেমে সোনহাট পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্ত অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মন্নু ত্রিপাঠীকে গ্রেফতার করেছে। মোট ৯ জন নামজাদা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন ও খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহত ভরত সিং একসময় কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বিজেপিতে যোগ দেন। স্থানীয় প্রভাব ও বালি নেটওয়ার্কে তাঁর ক্ষমতা ত্রিপাঠী গোষ্ঠীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক সংঘাত নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুনের চক্রান্ত। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন, অপরাধী যেই হোক, কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং আইন নিজের পথে চলবে। স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে এই বর্বর ঘটনাকে কোরিয়া জেলার ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।