আইপিও-র আগেই বড় চমক! এনএসই-র বিপুল জরিমানা নিষ্পত্তির প্রস্তাব, শেয়ার বাজারে তোলপাড়

দেশের বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) তাদের বহু প্রতীক্ষিত আইপিও (IPO) বাজারে আনার ঠিক প্রাক-মুহূর্তে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ডিআরএইচপি (DRHP)-তে সংস্থাটি স্বচ্ছভাবে তাদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও বিরোধগুলোর কথা তুলে ধরেছে। এনএসই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)-র সঙ্গে চলমান ‘কো-লোকেশন’ এবং ‘ডার্ক ফাইবার’ সংক্রান্ত বিতর্কগুলো স্থায়ীভাবে মিটিয়ে ফেলতে চাইছে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য এনএসই সেবি-র কাছে ১,৪৯১.২১ কোটি টাকার একটি বিশাল নিষ্পত্তি প্রস্তাব বা সেটলমেন্ট অফার জমা দিয়েছে।

কোষাগারের ওপর আর্থিক প্রভাব কতটা?
প্রথম দর্শনে ১,৪৯১ কোটি টাকার অঙ্কটি বিশাল মনে হলেও, এনএসই-র আর্থিক স্থিতিশীলতায় এটি খুব বড় কোনো হুমকি নয়। সংস্থাটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন আইনি আদেশের অধীনে সেবি-র কাছে প্রায় ১,১০৭ কোটি টাকা জমা দিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ, সেবি যদি এই নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়, তবে এনএসই-কে কেবল অবশিষ্ট বর্ধিত অর্থ নগদে পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানের এই মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

বিতর্কের মূলে কী?
পুরো বিষয়টি মূলত প্রযুক্তিগত অন্যায্য সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে জড়িত। ‘ডার্ক ফাইবার’ বিতর্কের মূল অভিযোগ ছিল—কিছু নির্দিষ্ট ট্রেডিং সদস্যকে অননুমোদিত ইন্টারনেট পরিষেবার মাধ্যমে অত্যন্ত উচ্চগতির সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ওই ব্রোকাররা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কয়েক সেকেন্ড আগেই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যেত, যা তাদের অনৈতিক মুনাফা অর্জনে সাহায্য করত। অন্যদিকে, ‘কো-লোকেশন’ কেলেঙ্কারিটি এনএসই-র ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। এতে অভিযোগ ছিল, প্রভাবশালী কিছু ব্রোকারকে এনএসই-র সার্ভার রুমের সন্নিকটে সিস্টেম বসানোর বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা বাজারের গতিবিধি দ্রুত পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

আইনি জটিলতার বর্তমান অবস্থা
২০১৯ সালে সেবি এনএসই-র ওপর কো-লোকেশন মামলায় ৬২৪.৮৯ কোটি এবং ডার্ক ফাইবার মামলায় প্রায় ৬২.৫৮ কোটি টাকার জরিমানা ধার্য করেছিল। যদিও পরবর্তীকালে সিকিউরিটিজ অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (এসএটি) এসব জরিমানা নিয়ে ভিন্ন রায় দিয়েছিল, তবে সেবি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। এনএসই এখন সেই দীর্ঘমেয়াদী মামলা থেকে মুক্তি পেতে ডার্ক ফাইবারের জন্য ২৬৭.৬৫ কোটি এবং কো-লোকেশন বিতর্কের জন্য ১,২২৩.৫৬ কোটি টাকা পরিশোধের সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে।

এমএসইআই (MSEI)-এর দাবির লড়াই
এনএসই-র আইনি ঝামেলার পরিধি শুধু সেবি-তেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী মেট্রোপলিটন স্টক এক্সচেঞ্জ (এমএসইআই)-এর সঙ্গে তাদের ১৫ বছরের পুরোনো আইনি লড়াই এখনও চলছে। এমএসইআই-এর অভিযোগ, এনএসই কারেন্সি ডেরিভেটিভস বাজারে তাদের একাধিপত্য ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ফিস কমিয়ে প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই ক্ষতির দায়ে এমএসইআই ১৮% সুদসহ প্রায় ৮৫৭ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। সব মিলিয়ে, এনএসই আইপিও-র পথে পা বাড়ানোর আগে এই আইনি বাধাগুলো দূর করে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে মরিয়া।