১৫ থেকে ৫০ কোটির টোপ? বিদ্রোহী সাংসদদের দলে টানতে মরিয়া ছোট দল, অস্বস্তিতে উদ্ধব গোষ্ঠী

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে যে অস্থিরতা চলছে, তার মধ্যেই নতুন মোড় নিল রাজনৈতিক সমীকরণ। শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর অন্দরে চলা ভাঙন যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট রাজনৈতিক দল, এনসিপিআই (NCPI), ওই গোষ্ঠীর বিদ্রোহী ৬ সাংসদকে সরাসরি দলবদলের খোলা প্রস্তাব দিয়েছে। যা মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহে কার্যত ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, যে ৬ জন সাংসদ নিয়ে এতদিন জল্পনা চলছিল যে তাঁরা উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী ছেড়ে একনাথ শিন্ডে শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন, তাঁদেরই এবার নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে এনসিপিআই। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ওই সাংসদরা চাইলে তাঁদের দরজা খোলা রয়েছে। যদিও এই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদ বা উদ্ধব ঠাকরের দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা যে রাজনৈতিক ডামাডোলে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে, শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের ‘কিনে নেওয়ার’ জন্য রীতিমতো কোটি টাকার টোপ দেওয়া হচ্ছে। রাউতের অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রতি ১৫ কোটি থেকে শুরু করে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে দলত্যাগ করার জন্য। যদিও রাউত সরাসরি দলের কোনো বিপদের কথা স্বীকার না করে দাবি করেছেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে।
উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই চাপের মুখে পড়ে আজ সকাল ১১টায় একটি জরুরি দলীয় সভা ডেকেছে। বিদ্রোহী সাংসদদের কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সভায় তাঁদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। নোটিশের স্পষ্ট নির্দেশ, সভায় অনুপস্থিত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শিবসেনার একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর এমএলসি চন্দ্রকান্ত রঘুবংশী দাবি করেছেন, উদ্ধব গোষ্ঠীর ৬ জন সাংসদ ইতোমধ্যে তাঁদের জোটে যোগ দিয়েছেন। রঘুবংশীর কথায়, “মহারাষ্ট্রে ‘অপারেশন টাইগার’ সফল হয়েছে। আজ ৬ জন সাংসদ একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখে শিবসেনায় (শিন্ডে গোষ্ঠী) যোগ দিয়েছেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী একদিকে যেমন শিন্ডে শিবিরের ভাঙনের মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে বাইরের নতুন রাজনৈতিক দলের এই প্রস্তাব তাঁদের অস্তিত্বের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত এই ৬ সাংসদ কোন পথে হাঁটেন—উদ্ধবের আনুগত্যে নাকি শিন্ডের নতুন শিবিরের আকর্ষণে—তা এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।