বয়স কেবল সংখ্যা! মেসি-রোনাল্ডোর ফিটনেস মন্ত্রে ৫৮-তেও মাঠ কাঁপাচ্ছেন বাঁকুড়ার বিশ্বজিৎ

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কিংবা ম্যানুয়েল নয়ারের মতো তারকারা যেন বয়সকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিচ্ছেন। ৩৯ বছর বয়সেও মেসির ক্ষিপ্রতা কিংবা রোনাল্ডোর শরীরী গঠন দেখে ফুটবলপ্রেমীরা বিস্মিত। মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেলপসের সেই বিখ্যাত উক্তি, “আই প্র্যাকটিস এভ্রিডে” অর্থাৎ প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনই যে সাফল্যের চাবিকাঠি, তা এই তারকারা ফের প্রমাণ করছেন। তবে শুধু আন্তর্জাতিক তারকাই নন, ফিটনেসের এই লড়াইয়ে আমাদের বাংলার ঘরের ছেলেও আজ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বাঁকুড়ার বিশ্বজিৎ চৌধুরী। ৫৮ বছর বয়সেও তিনি ফুটবল মাঠে নিজের দাপট ধরে রেখেছেন। বাঁকুড়া দলের অধিনায়কত্ব করা বিশ্বজিৎ বাবুকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে তাঁর বয়স ৫০ পার করেছে, তাঁর শারীরিক গঠন ও তৎপরতা অনায়াসেই ৪০-এর কোঠায় থাকা কোনো ফুটবলারকে হার মানাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ চাকরি সামলানো এবং সংসার সামলানোর ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর এই অদম্য স্পৃহা অবাক করার মতোই।

বিশ্বজিৎ বাবুর মতে, তারকা ফুটবলাররা যেভাবে নিজেদের শরীরকে সব সময় স্ট্রেসের মধ্যে রেখে অনুশীলনের মাধ্যমে সচল রাখেন, সেটাই ফিটনেস ধরে রাখার আসল রহস্য। তাঁর কথায়, “শরীরকে যত বেশি সচল রাখা যায়, ততই বয়স কেবল একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে।” তিনি মনে করেন, পরিমিত আহার এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় নিয়ম মেনে চলাটাই হলো ফিট থাকার মূল মন্ত্র। তিনি নিজেও প্রতিদিন নিয়ম করে দৌড়, শরীরচর্চা এবং মাঠে সক্রিয় থাকেন। তাঁর মতে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি শরীর ও মনের এমন এক সংযোগ যা মানুষকে দীর্ঘ সময় তরুণ রাখতে সাহায্য করে।

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাদের ফিটনেস রহস্যের সঙ্গে বাঁকুড়ার বিশ্বজিৎ চৌধুরীর জীবনযাত্রার এক অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করা যায়। নিয়মিত অনুশীলন, মানসিক দৃঢ়তা এবং খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকলে যে বয়স কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তা বিশ্বজিৎ বাবু আজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। মাঠে নেমে তরুণদের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের কাছে এক বড় প্রেরণা।

আসলে, মেসি হোক বা বিশ্বজিৎ চৌধুরী—শৃঙ্খলাই যে একজন ক্রীড়াবিদের দীর্ঘ কেরিয়ারের আসল বন্ধু, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ফিটনেস ফানডায় জয়ী এই মানুষগুলো বুঝিয়ে দিলেন যে, মাঠেই বেঁচে থাকে একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ।