“চুপচাপ বাংলাদেশ চলে যান!” মমতার পিএসও বদল নিয়ে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে শোরগোল!

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন স্বরুপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদী। কিন্তু গত বুধবার প্রশাসনিক রদবদলে তাঁদের সরিয়ে নতুন তিন পিএসও (PSO) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট ও লাইভের মাধ্যমে এর কড়া প্রতিবাদ জানান। আর এই ইস্যুতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

বুধবার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। পিএসও বদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার আমাকেও একসময় নিরাপত্তা দিয়েছিল, আমি তো নিজের পছন্দমতো নিয়োগ করিনি। তাহলে উনি কেন পিএসও নির্বাচনের বায়না ধরছেন? উনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তো ছ-মাস অন্তর পুলিশ অফিসারদের বদলি করতেন। এখনকার সরকারের অধিকার আছে প্রশাসনিক রদবদল করার। উনি যদি সংবিধান বা সরকারি নিয়ম না মানেন, তবে ওনার বাংলাদেশ চলে যাওয়াই ভালো।”

নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হকার উচ্ছেদ বিরোধী মিছিল নিয়েও এদিন সরব হন দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “মিছিল করে নিজেকে জীবিত রাখার চেষ্টা করছেন। হকারদের থেকে টাকা নিয়ে যাঁরা বসিয়েছিল, এখন তারাই আবার মিছিল করছে! রাস্তাঘাট তো ব্যবসা করার জন্য নয়। সরকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে বদ্ধপরিকর।”

অন্যদিকে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনি এতদিন বাইরে ছিলেন কীভাবে? ওনার বিরুদ্ধে তো অনেক আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। বাবার আমল থেকেই সার কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” একইসঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “এরা এতদিন সাধারণ মানুষকে চমকে-ধমকে টাকা তুলেছে, জমি-ফ্ল্যাট দখল করেছে। মানুষ এখন ভরসা পেয়ে অভিযোগ জানাচ্ছে। সবকিছুরই হিসাব হবে।”

দিলীপ ঘোষের এই একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। একদিকে তৃণমূল যখন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক রদবদলকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাগাচ্ছে, অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের সুর বুঝিয়ে দিচ্ছে, শাসকদলকে কোনো ছাড় দিতে নারাজ বিজেপি।