পরকীয়া সন্দেহে চরম নৃশংসতা! হরিয়ানায় ঘুমন্ত স্বামীর পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করে দিল স্ত্রী!

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র জেলা এক অত্যন্ত ভয়াবহ, নৃশংস এবং লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল, যা গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পৈশাচিক কায়দায় নিজের স্বামীকে পেট কেটে খুন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সবথেকে ভীতিপ্রদ বিষয় হলো, স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করার পরেও অভিযুক্ত স্ত্রীর মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ভয়ের লেশমাত্র ছিল না; বরং সে অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, বাড়িওয়ালার সাহসিকতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় সে হাতেনাতে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায়।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম রাজেশ, যিনি মূলত উত্তর প্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা ছিলেন। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তিনি তাঁর স্ত্রী বিমলাকে সঙ্গে নিয়ে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। গত এক বছর ধরে কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডের রাজপ্যালেস এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে এই দম্পতি সংসার পেতেছিলেন। ঘটনার পর গুরুতর জখম অবস্থায় অভিযুক্ত স্ত্রী বিমলাকে পুলিশ পাকড়াও করে এবং বর্তমানে তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় হাসপাতালেই চিকিৎসার অধীনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের বেডেই তাকে দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ। দম্পতির ভাড়া বাড়ির ছাদ থেকে হঠাৎই তীব্র ঝগড়াঝাটির আওয়াজ শুনতে পান বাড়িওয়ালা রিঙ্কু। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি যখন দ্রুত ছাদে গিয়ে উপস্থিত হন, তখনই তাঁর চোখে পড়ে এক ভয়াবহ দৃশ্য। তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় ছাদে পড়ে রয়েছে রাজেশের নিথর দেহ। রাজেশের পেট নৃশংসভাবে ১৪ ইঞ্চিরও বেশি কেটে ফেলা হয়েছিল এবং পেট থেকে তাঁর নাড়িভুঁড়ি ও অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। আর সেই রোমহর্ষক দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে তিনি দেখেন, অভিযুক্ত স্ত্রী বিমলা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সেই রক্তমাখা নাড়িভুঁড়ি ব্যাগে ভরার চেষ্টা করছে।
বাড়িওয়ালাকে হঠাৎ সামনে চলে আসতে দেখেই বিমলা ভয় পেয়ে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে পালানোর জন্য মরিয়া হয়ে ছাদ থেকে নিচে লাফ দেয়। যার ফলে সে নিজেও গুরুতর জখম হয়। এরপর স্থানীয় মানুষেরা দ্রুত ছুটে এসে তাকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই তিন ধরনের ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে এবং ক্রাইম সিন সম্পূর্ণ সিল করে ফরেন্সিক দল দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, রাজেশের শরীর থেকে তাঁর যকৃতের একটি বড় অংশ এবং কিডনি গায়েব রয়েছে। নিখোঁজ এই অঙ্গগুলি কোথায় গেল বা কী উদ্দেশ্যে সেগুলি সরিয়ে ফেলা হলো, তা নিয়ে বর্তমানে গভীর ধন্দে পড়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিন্দুমাত্র কারণেও অশান্তি বা বিবাদ লেগে থাকত। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন সুনির্দিষ্ট ক্ষোভের বশে একজন স্ত্রী নিজের স্বামীকে এমন বিভৎস কায়দায় খুন করতে পারে, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।