বড়সড় ধাক্কা পেতে চলেছে সাধারণ মানুষ! সেপ্টেম্বরেই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক, পুজোর আগে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

গোটা দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এবার পড়তে চলেছে এক বিরাট ধাক্কা। আগামী মাস থেকেই দেশজুড়ে জোরালো ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা। ‘ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন’ (UFBU)-এর ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই ধর্মঘট পালিত হতে চলেছে। মূলত পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ (Performance-Linked Incentive) বা PLI স্কিম নিয়ে চূড়ান্ত বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কর্মচারীরা। আর সেই ক্ষোভের আগুন থেকেই এই লাগাতার আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি।
কর্মচারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো সপ্তাহের পাঁচ দিন কাজ এবং দুই দিন ছুটি। বর্তমানে ব্যাঙ্ক কর্মীরা মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি পেলেও, তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি—সপ্তাহের প্রতিটি শনিবারই তাঁদের ছুটি দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের চালু করা পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভের বর্তমান কাঠামোতেও তীব্র আপত্তি রয়েছে সংগঠনের। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু পদের বা ব্যক্তির পরিবর্তে সমস্ত কর্মচারীকে তাঁদের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সমানভাবে ইনসেনটিভ প্রদান করতে হবে। এই সমস্ত অমীমাংসিত দাবিদাওয়া নিয়েই মূলত এই বৃহত্তর ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী মাসের একেবারে শুরুতেই অর্থাৎ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর একদিনের জন্য দেশজুড়ে প্রতীকী ধর্মঘট পালিত হবে। এরপর পরিস্থিতি না বদলালে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধরে চলবে দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। এর পরেও যদি আলোচনা মাধ্যমে কর্মচারীদের দাবি পূরণ না হয়, তবে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সবথেকে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আগামী অক্টোবরের শুরুতেই রয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। পুজোর সেই আনন্দমুখর ও উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে যদি এমন লাগাতার ব্যাঙ্ক ধর্মঘট চলতে থাকে, তবে সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়বেন তা বলাই বাহুল্য। এটিএম পরিষেবা থেকে শুরু করে ক্যাশ লেনদেন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ মানুষকে যে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।