‘ডিজিটাল সই’-তে বদলে গেল বিশ্ব! আমেরিকা-ইরান চুক্তিতে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত

বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (MoU) চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও ভূ-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন অস্থিরতা। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে তৈরি হয়েছে এক গভীর কূটনৈতিক দড়ি টানাটানি।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরকারি ব্রডকাস্টার IRIB-এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ডিজিটাল সইয়ের মাধ্যমে এই চুক্তি এখন ‘সরকারিভাবে চূড়ান্ত’। বাঘাইয়ের মতে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গের পরিণাম এবার হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা এক চুলও জমি ছাড়বে না।

এই চুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো পারমাণবিক ইস্যুকে আপাতত আলোচনার বাইরে রাখা। ইরান তাদের কৌশল পরিষ্কার করেছে—আগে যুদ্ধ থামাও, তারপর অন্য কথা। ইরান জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে আলোচনা হবে। আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানো, আর তেহরান চাইছে তাদের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়া।

সবচেয়ে বড় বিতর্কটি দানা বেঁধেছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সাফ জানিয়েছেন, হরমুজ আর কোনোদিন যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে না। চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিন টোল-ফ্রি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই জলপথ পরিচালনা করবে এবং ইরান ট্রানজিট ফি আদায়ের ঘোষণা করেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই টোল বা শুল্কের বিরোধিতা করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় সংঘাতের ইঙ্গিত।

নিজেদের সামরিক শক্তির প্রশ্নে ইরান এখন আগের চেয়েও বেশি আগ্রাসী। বাঘাইয়ের কথায়, “ইরানের মিসাইল ছোড়ার জন্য, আলোচনার জন্য নয়।” তাদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে তোলা যাবে না বলে ইরান জানিয়ে দিয়েছে। লেবাননের সার্বভৌমত্বকে চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করাকে তেহরান তাদের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। জেনেভায় আসন্ন বৈঠক কি শান্তি ফেরাতে পারবে, নাকি আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক আবার নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে—সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।