বিদায় ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর, টলিউডের জট কাটাতে একমঞ্চে দেব-হিরণ-সৃজিতরা

দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ায় চলা অচলাবস্থা, ফেডারেশন বনাম প্রযোজক দ্বন্দ্ব এবং ‘ব্যান কালচার’-এর মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সিনেমা ও টেলিভিশন শিল্পের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে ১৯ সদস্যের এক শক্তিশালী উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করা হয়েছে। টলিউডের এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

কারা থাকছেন কমিটিতে? রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বৈঠকে ঠিক হয়েছে যে, টলিউডের দায়িত্বভার এখন থেকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়দের হাতে। নতুন উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মতো তারকারা। এছাড়াও থাকছেন প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি, সানি ঘোষ রায় এবং সরকারি আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, টলিউডের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ থেকে এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই অব্যাহতি দেওয়া হলো অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসকে।

ফেডারেশন ও গিল্ডের ভবিষ্যত: সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো ফেডারেশন ও গিল্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ১৯২৬ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইন অনুযায়ী, গায়ের জোরে নয়, বরং আইনসম্মত পদ্ধতিতেই কাঠামো বদল করা হবে। নতুন কমিটি গঠনের আগে বর্তমান পরিকাঠামো বহাল থাকলেও, ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ, টলিউডে ক্ষমতার বিন্যাসে এবার আসতে চলেছে বড়সড় আইনি বদল।

একমঞ্চে দেব ও হিরণ: এই কমিটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো দেব ও হিরণের অন্তর্ভুক্তি। নির্বাচনের ময়দান থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ—যাঁদের বিরোধ ছিল টলিপাড়ার অন্যতম চর্চার বিষয়, এবার সেই দুই তারকাকে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে একই টেবিলে বসতে হবে। এখন দেখার, টলিউডের ভবিষ্যতের খাতিরে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হাত মেলান কি না।

পাপিয়া অধিকারীর নতুন পরিকল্পনা: টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী আগেই ‘ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ান্স’-এর পরিবর্তে ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড কালচারাল কনফেডারেশন’ (EIMPCC) তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ২৬টি গিল্ডের বর্তমান কাঠামো ভেঙে স্বচ্ছ কর্মপদ্ধতি তৈরির যে পরিকল্পনা তিনি জানিয়েছিলেন, তা এই সরকারি বিবৃতিতে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষদের মতো নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এখন থেকে শিল্পীরা কোনো ‘দাদাগিরি’ বা ‘ব্যান কালচার’-এর শিকার হবেন না। শিল্পী ও কলাকুশলীরা স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ফিরে পাবেন। দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানার অবসান ঘটিয়ে টলিউড এবার নতুন কোনো পথে এগোয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।