আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের পাতে বাঙালির ঝালমুড়ি! মোদীর ‘দেশি এনার্জি ডায়েট’-এ মজেছে কেন্দ্র

ঝাড়গ্রামের নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বিখ্যাত ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্যটি এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। বাঙালির সেই অতি পরিচিত ও মুচমুচে ঝালমুড়ি এবার শুধু বাঙালির আড্ডার সঙ্গী নয়, বরং জায়গা করে নিল আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের বিশেষ খাদ্যতালিকায়! বিদেশি দামী ‘সুপারফুড’ বা জাঙ্ক ফুডকে সরিয়ে এবার কেন্দ্র সরকার ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারকেই ‘আয়ুষ আহার’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চলেছে।

কী থাকছে এই বিশেষ ‘আয়ুষ আহার’-এ?
কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের তরফে আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে যে বিশেষ মেনু বা ‘আয়ুষ আহার’ প্রস্তুত করা হয়েছে, তা চমকে দেওয়ার মতো। এই তালিকায় ঝালমুড়ির পাশাপাশি রাখা হয়েছে জোয়ার ও বাজরার তৈরি বিস্কুট, প্রাকৃতিক ডাবের জল, সতেজ কলা এবং গুড়-বাদামের চিক্কি। আয়ুষ মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই যে বিদেশি ফলের সমাহার বা দামি জাঙ্ক ফুড হতে হবে, এমন ধারণা ভুল। বরং আমাদের হাতের কাছে থাকা স্থানীয় ও সহজলভ্য দেশি খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে পুষ্টির আসল ভারসাম্য।

প্রধানমন্ত্রীর পাতেও কি ঝালমুড়ি?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সফরে আসছেন। ২১ জুন যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যোগাভ্যাস পরবর্তী জলখাবারেও এই দেশি ‘এনার্জি কম্বো’ তুলে দেওয়া হতে পারে। ঝালমুড়ি যে কেবল মোদীর পছন্দের খাবার তা নয়, এটিকে দেশের পুষ্টি অভিযানের প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।

কেন এই দেশি কম্বোকে বেছে নিল কেন্দ্র?
যোগাভ্যাসের পর শরীরের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরিয়ে আনতে ডাবের জল অতুলনীয়। কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা পেশিকে শক্তিশালী করে, আর গুড়-বাদামের চিক্কিতে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও আয়রন। মুড়িতে ক্যালোরি ও ফ্যাটের মাত্রা অত্যন্ত কম, যা শরীরকে হালকা রাখে অথচ দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকার শক্তি যোগায়। মূলত শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে এই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর মেনুকেই বেছে নিয়েছে কেন্দ্র। বাঙালির সান্ধ্য আড্ডার চিরপরিচিত ঝালমুড়ি এবার ‘যোগ’-এর হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। দেশি খাবারের এই জয়যাত্রা এখন কেবল স্বাস্থ্য সচেতনতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারতের সংস্কৃতির এক নতুন বিপণনও বটে।