“হাজিরা দিলেন অরূপ, কালীঘাটে তোলপাড়!”-৫৩৪ কোটির মালিকানা নিয়ে বড় বিপদে মমতা?

মেসিকাণ্ডের তদন্তে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ থানায় প্রবেশ করেন তিনি। পরপর তিনবার তলব এড়ানোর পর অরূপের এই হাজিরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মেসির কলকাতা সফর ও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ব্যবস্থাপনা ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, সেই মামলার তদন্তের খাতিরেই অরূপ বিশ্বাসকে ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ। দীর্ঘদিন হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। তবে এদিন তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি কতটা মুখ খোলেন, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।
তহবিল হাতবদলের চেষ্টা? কালীঘাটের অন্দরে উদ্বেগ: অরূপ বিশ্বাসের হাজিরা যখন শিরোনামে, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল আর্থিক সম্পদের তথ্য। সূত্রের খবর, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। বিধানসভার নতুন সমীকরণ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরের উত্থানের পর, এই বিপুল অর্থের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্কে ভুগছে শাসকদল।
দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী:
ঋতব্রতদের নতুন রাজনৈতিক ব্লক যাতে আইনি পথে এই ৫৩৪ কোটির তহবিলের দখল নিতে না পারে, সেজন্য মরিয়া কালীঘাট।
সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাময়িকভাবে অন্য কোনো ঘনিষ্ঠ দলের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলার বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: তৃণমূলের এই ‘অর্থ স্থানান্তর’ সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবির একে ‘তহবিল চুরির চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে অরূপ বিশ্বাসের থানায় হাজিরা এবং দলের তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে এই নড়চড়া—সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে এক গভীর আইনি ও রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে, তা বলাই বাহুল্য।