একজন ক্রিকেটারের কাছে অভিষেক ম্যাচ মানেই স্বপ্নের শুরু। কিন্তু আফগানিস্তানের ২৬ বছর বয়সী প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান দারবিশ রাসুলির ক্ষেত্রে সেই স্বপ্ন পরিণত হলো এক দুঃস্বপ্নে। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে লখনউতে ওয়ানডে অভিষেক ম্যাচে নামলেও, একের পর এক চোট তাঁর ইনিংসকে করুণভাবে সমাপ্ত করল।
শোক ও দায়িত্বের লড়াই: এর আগে ধর্মশালায় ওয়ানডে চলাকালীন দারবিশ রাসুলির বাবা মারা যান। শোকাচ্ছন্ন রাসুলি দলের সঙ্গ ছেড়ে আফগানিস্তানে ফিরে গিয়েছিলেন বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে। শোক কাটিয়ে আবার খেলায় ফেরার অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে তিনি লখনউতে দলের সঙ্গে যোগ দেন এবং অভিষেক ম্যাচে নামার সুযোগ পান। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন সুখকর হয়নি।
অভিষেক ম্যাচে দুবার চোট: লখনউ ওয়ানডে ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় প্রথমবার হ্যামস্ট্রিংয়ে মারাত্মক চোট পান রাসুলি। ব্যথার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যেতে হয়। দলের স্বার্থে অদম্য মানসিকতা দেখিয়ে তিনি পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, মাত্র ছয় বল খেলার পর একটি পুল শট মারতে গিয়ে আবারও সেই হ্যামস্ট্রিংয়ে প্রচণ্ড টান লাগে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা রাসুলি আর ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি, মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
ভবিষ্যতের তারকা: দারবিশ রাসুলিকে আফগানিস্তানের ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে ৬০.৯৩ গড়ে ২,৬৮১ রান এবং লিস্ট-এ ক্রিকেটে ৫৪.৯৪ গড়ে ৩,০২২ রান তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে। উভয় ফরম্যাটে ১০টি শতক করা এই ব্যাটার টি-টোয়েন্টিতে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
অভিষেক ম্যাচে এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোট রাসুলির ক্যারিয়ারে সাময়িক ছন্দপতন ঘটালেও, তাঁর মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে ক্রীড়ামহলে চলছে বিস্তর আলোচনা। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন চাইছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে এই তরুণ প্রতিভা আবারও স্বমহিমায় মাঠের লড়াইয়ে ফিরুন।





