ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি স্থাপনের বার্তা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফের সুর বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইরানকে সামরিক আক্রমণের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত মউ (MoU) চুক্তিটি এখনও তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।
কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? বুধবার ইজিপ্টের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যদি আমার এই চুক্তি পছন্দ না হয়, তবে আমেরিকা ফের সামরিক পথে হাঁটবে। আমরা ওদের নিশানায় নিয়ে বোমা বর্ষণ করব। গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর। তারা যদি নিজেদের শোধরাত না পারে, তবে আমরা তাদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানতে দ্বিধা করব না।”
হরমুজ প্রণালীর সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি: উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যেকার সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইজরায়েলের মদতে আমেরিকার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের পালটা পদক্ষেপের জেরে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথ দিয়েই হয়ে থাকে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া।
চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: গত সোমবার ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনার সূত্রপাত হলেও, বর্তমানে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে চাপে রেখে নিজের শর্তে চুক্তিতে সই করানোর জন্য ট্রাম্প এই ‘চাপ সৃষ্টি’র কৌশল অবলম্বন করছেন।
তবে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুদ্ধের দামামা এবং শান্তির প্রস্তাব—এই দুইয়ের দোলাচলে এখন বিশ্ব রাজনীতি তাকিয়ে রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





