অজয় নদের পাড়ে বিঘার পর বিঘা উর্বর তিন ফসলি জমি এখন বালি মাফিয়াদের গ্রাসে। বীরভূমের ইলামবাজারের ঊষরডিহি মৌজার সাহেবডাঙা এলাকায় কৃষি জমি ধ্বংস করে দেদার চলছে অবৈধ বালি উত্তোলন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাফিয়াদের এই দাপটে কার্যত দিশেহারা স্থানীয় চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ: দীর্ঘদিন ধরে যে জমিতে তিনটি ফসল ফলে, সেই জমি এখন বালির লরি ও ট্রাকের যাতায়াতের পথে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি ছাড়াই জমির মাটি কেটে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও জমির উপর দিয়েই ভারী লরি চালিয়ে জমিটিকে চাষের অযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ যেমন থমকে গেছে, তেমনি নদীভাঙনের আতঙ্কও তৈরি হয়েছে এলাকায়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। অভিযোগের আঙুল উঠছে পুলিশের একাংশের দিকেই। চাষিদের দাবি, প্রশাসনের অঘোষিত মদতেই এই বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বালি মাফিয়ারা। রাজ্য সরকারের নির্দেশ সত্ত্বেও বালি মাফিয়ারা কার্যত আইনের তোয়াক্কা করছে না।
কী বলছে প্রশাসন? ইলামবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর।
পরিবেশের ওপর প্রভাব: শুধুমাত্র কৃষিজমির ক্ষতি নয়, এভাবে নদীগর্ভ ও পাড় থেকে যথেচ্ছ বালি তোলায় পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি পরিবেশবিদদের। দ্রুত এই বেআইনি কারবার বন্ধ না হলে ইলামবাজারের বিস্তীর্ণ কৃষি এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





