বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মোড়। সঙ্গীতশিল্পী, বাচিক শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে গড়ে উঠল এক নতুন অরাজনৈতিক মঞ্চ— ‘পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’। বুধবার প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল এই সংগঠন। রাজ্যের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং শিল্পী সমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে এবার একজোট হলেন অনিন্দ্য বোস, শিলাজিৎ মজুমদার, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, সিধু-সহ প্রথিতযশা শিল্পীরা।
এদিনের এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে একটি খসড়া তালিকা।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শিল্পীদের ৭ দফা দাবি: সংগঠনের মুখপাত্র গায়ক অনিন্দ্য বোস সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, সুস্থ সাংস্কৃতিক বাতাবরণ ফিরিয়ে আনতে মূলত সাতটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
১. স্বচ্ছতা: সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপোষণের অবসান ঘটানো। ২. সুরক্ষা: মহিলা শিল্পীদের জন্য মঞ্চে ও কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. সামাজিক সুরক্ষা: শিল্পীদের জন্য বার্ধক্যভাতা ও মেডিক্লেম চালু করা। ৪. সুযোগের সমতা: জেলার প্রতিভাবান শিল্পীদের মূল স্রোতে নিয়ে আসা। ৫. বাংলা গানের প্রচার: মৌলিক বাংলা গানের প্রসারে নির্দিষ্ট সরকারি মাধ্যম তৈরি করা। ৬. এফএম চ্যানেলে প্রচার: রেডিও চ্যানেলগুলিতে বাংলা গান বাজানোর বাধ্যবাধকতা। ৭. লোকশিল্পীদের উন্নয়ন: স্থানীয় লোকশিল্পীদের সমস্যা দূর করা ও সুযোগ বাড়ানো।
কী বললেন রুদ্রনীল ঘোষ? শিল্পীদের দাবি পত্র গ্রহণ করে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “গায়ক-গায়িকা ও মিউজিশিয়ানরা একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ তৈরি করেছেন। বিগত ১৫ বছর ধরে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে যে সিস্টেম চলে আসছিল, মানুষের আশীর্বাদে সেই ব্যবস্থার পরাজয় হয়েছে। শিল্পীরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিশ্বাস ও ভরসা নিয়ে দাবি রেখেছেন। আমি এই দাবিগুলি সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেব।”
শিল্পীদের এই নতুন ফোরামকে কেন্দ্র করে বাংলার সাংস্কৃতিক মহলে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে স্বজনপোষণ বিরোধী লড়াই, অন্যদিকে সরকারি স্তরে দাবি আদায়ের এই প্রচেষ্টা আগামী দিনে রাজ্যের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে কতটা বদল আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





