টেম্পো চালক থেকে কোটিপতি! অযোধ্যা মন্দির ট্রাস্টের কর্মচারী তিনু যাদবের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে চাঞ্চল্য

রাম মন্দির ট্রাস্টে অনুদান এবং মূল্যবান গহনা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে অযোধ্যায় জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব, যিনি ‘তিনু যাদব’ নামেই বেশি পরিচিত। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তিনু যাদবের জীবনযাত্রা ও সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

টেম্পো চালক থেকে ট্রাস্টের প্রভাবশালী ব্যক্তি: নব্বইয়ের দশকে তিনু যাদব ছিলেন একজন সাধারণ টেম্পো চালক। অযোধ্যার নয়া ঘাটে তাঁর বাবার একটি ছোট চায়ের দোকান ছিল। রাম মন্দির আন্দোলনের সময় মহেশ নারায়ণের চালক হিসেবে কাজ করার সুবাদেই তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসেন। ২০০২ সালে মহেশ নারায়ণের মৃত্যুর পর তিনি সরাসরি চম্পত রায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঢুকে পড়েন। মন্দির নির্মাণ শুরু হওয়ার পর তিনি ট্রাস্টের একজন বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে যোগ দেন, যার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ২২,০০০ টাকা।

কোটি টাকার সম্পদের উৎস কী? বেতন মাত্র ২২ হাজার টাকা হলেও, তিনু যাদবের সম্পত্তির বহর দেখে হতবাক স্থানীয়রা:

  • বিলাসবহুল হোস্টেল: অযোধ্যার নাকা এলাকায় তার একটি নবনির্মিত দোতলা বাড়ি রয়েছে, যা বর্তমানে একটি হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৪টি ঘর বিশিষ্ট এই বাড়িতে মাসে ভাড়া বাবদ আসে ৩৭,০০০ টাকা।

  • পৈতৃক বাড়ি: স্বর্গদ্বারী মহল্লায় তার তিনতলা একটি বাড়িও রয়েছে।

  • ক্ষমতা: ট্রাস্টের অন্দরে তার প্রভাব এতটাই ছিল যে, অনুদান হিসেবে আসা নগদ অর্থ ও সোনা-রুপার গহনা নিয়ম মেনে ব্যাংকে জমা দেওয়ার মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনিই।

তদন্তের মুখে তিনু যাদব: ট্রাস্টের প্রাক্তন হিসাবরক্ষকের দাবি, দানবাক্সের সোনা-রুপার হিসাব বরাবরই অস্পষ্ট ছিল। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপ্রদেশ সরকার বিষয়টির তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। তদন্তকারী দলটি ইতিমধ্যেই রাম মন্দির চত্বরে পৌঁছেছে এবং চম্পত রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে।

যদিও তিনু যাদব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই সব অর্থ ও গহনা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন, তবে এসআইটি-র তদন্তেই বেরিয়ে আসবে আসল সত্য। একজন সামান্য টেম্পো চালক কীভাবে রাম মন্দির ট্রাস্টের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন এবং এত সম্পদের মালিক হলেন—সেটাই এখন অযোধ্যাবাসীর প্রধান কৌতূহলের বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy